নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, 'সিটি করপোরেশন একটা সিন্ডিকেটে পরিণত হয়েছে। যেখানে ১৭৬ ঠিকাদারি সংস্থা করপোরেশনে লিস্টেড ছিল, সেখানে এখন মাত্র ২৩ সংস্থা কাজ করছে।'

বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী পুল এলাকায় প্রচারণা ও গণসংযোগে নেমে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তৈমূর বলেন, 'নারায়ণগঞ্জে দুই ব্যক্তি ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে- এটা ওপেন সিক্রেট। আমি আলী আহমদ চুনকা থেকে শিখেছি। তিনি তার গাড়িতে কোনো কন্ট্রাক্টর উঠতে দিতেন না। আমি বিআরটিসির চেয়ারম্যান থাকাকালে রুমে কোনো কন্ট্রাক্টর ঢুকতে দিতাম না, গাড়িতেও উঠতে দিতাম না।'

তিনি বলেন, 'মেয়র শহরকে রিপ্রেজেন্ট করে। অতএব মেয়রের ব্যর্থতা সরাসরি নগরবাসীর ওপর বর্তায়। এ কারণে নগরবাসী এখন পরিবর্তন চায়। আমরা যখন বিদেশে গিয়েছি মেয়র আমাদের রিসিভ করতেন ও আপ্যায়ন করাতেন।'

তৈমূর আরও বলেন, 'পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের পুঞ্জিভূত ব্যর্থতা ও নগরবাসীদের ক্ষোভ এবং পরিবর্তনের যে ডিমান্ড- এটাই জনগণের প্রত্যাশা। সিটি করপোরেশন অধিক মাত্রায় ট্রেড লাইসেন্স ফি, হোল্ডিংট্যাক্স, জন্ম নিবন্ধন ফি বাড়িয়েছে। পানির কল না বসিয়েই টাকা নিচ্ছে। এতে জনগণের ওপর করের বোঝা বৃদ্ধি পেয়েছে। যে সেবাটা পাওয়ার কথা ছিলো সেটাও পায়নি নগরবাসী। যানজট, জলাবদ্ধতা ও বায়ুদূষণমুক্ত শহর চান নগরবাসী।'

স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর বলেন, 'নগরবাসী নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত। প্রতিটি এলাকায় কমিউনিটি সেন্টার থাকতে হবে, মেধা বিকাশের ব্যবস্থা থাকতে হবে।'

তিনি বলেন, 'পত্র-পত্রিকায় দেখেছি নারায়ণগঞ্জে কিশোর গ্যাং বৃদ্ধি পেয়েছে। কিশোরদের হাতে অল্টারনেটিভ না থাকার কারণেই কিশোর গ্যাং তৈরি হচ্ছে। যেখানে খেলার মাঠ হওয়ার কথা সেখানে সিটি করপোরেশন অ্যাপার্টমেন্ট করেছে। ফলে কিশোরদের মেধা বিকাশ হচ্ছে না, তারা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।'

তিনি আরও বলেন, 'আগামী একশো বছরকে সামনে রেখে নগরপরিকল্পনা করতে চাই। পৌর পাঠাগারকে আলী আহমদ চুনকা পাঠাগার করা হোক সেই দরখাস্তে আমি সই করেছি। কিন্তু পাঠাগারে দেড়শ' লোকও বসতে পারে না। এটাকে বড় করতে হবে।'

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি খন্দকার মনিরুল ইসলাম, সিদ্ধিরগঞ্জ ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি অকিলউদ্দীন ভুইয়া, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, সিনিয়র সহসভাপতি গোলাম মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনসহ যুবদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।