কাউকে ক্ষমতায় নিতে বা ক্ষমতাচ্যুত করতে নয়, জাতীয় পার্টি দেশের মানুষকে ‘মুক্তি দিতে’ রাজনীতি করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও ও সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা জি এম কাদের।

রোববার দুপুরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিয়ম সভায় তিনি এ কথা বলেন।

জি এম কাদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টি কারও আস্থা অর্জন বা কারও বিরাগভাজন হতে রাজনীতি করে না। জাতীয় পার্টি স্বতন্ত্র আদর্শ নিয়ে রাজনীতির মাঠে আছে। প্রকৃতপক্ষে দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়।’ 

গত দুই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নানা নাটকীয়তায় পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেধে আসা সংসদে আসা জাতীয় পার্টির নেতারা এখন বলছেন, ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। 

রোববারের অনুষ্ঠানেও জি এম কাদেরের সঙ্গে শোনা গেল সেই একই সুর। 

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের পরিবর্তে বিএনপিকে আর চায় না। এ দু'টি দলের বিকল্প হিসেবে জাতীয় পার্টিকেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায় দেশের মানুষ। ভবিষ্যতে কাউকে সমর্থনের প্রয়োজন হলে দেশের ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

বিএনপি-আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পরিবর্তে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। বিএনপি বিনা বিচারে হত্যা শুরু করেছে, আওয়ামী লীগ এসে তার ধারাবাহিকতায় রক্ষা করছে। বিএনপি দুর্নীতিতে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছে, আওয়ামী লীগ এসে সেই ধারাবাহিকতায় রক্ষা করছে। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়বে।’

বিএনপির উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যখন জেলখানায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন, তখন পিজি হাসপাতালে সুচিকিৎসার জন্য তৎকালীন বিএনপি সরকারের কাছে আবেদন করেছিলাম। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনাও এরশাদের সুচিকিৎসার জন্য বিবৃতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপি সরকার তখন জেলখানা থেকে পিজি হাসপাতালে নিয়ে এরশাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি। অথচ আজ বিএনপি তাদের নেত্রীর চিকিৎসার জন্য কান্নাকাটি করছে।’

জি এম কাদের সড়ক দুর্ঘটনা, নারী নির্যাতনসহ আরও নানা বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতিটা এমন যে সড়কে বের হলে দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাবে, ট্রেনের ধাক্কায় বাসের যাত্রী মারা যাবে, আর নদীতে দুর্ঘটনায় অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হবে, এখন এটাই যেন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাবে, আর এর কোনো বিচার হবে না। আবার স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হচ্ছেন নারী। ইজ্জতের নিরাপত্তা নেই কোথাও। দেশটা দিনে দিনে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।’

বর্তমান নির্বাচনী সংস্কৃতি নিয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘নির্বাচনে সরকারি দলের টিকিট পেলেই সেখানকার পুলিশ ও প্রশাসনের একটি অংশ নির্বাচনকে কলুষিত করতে উঠেপড়ে লেগে যায়। নির্বাচনের মাঠে প্রতিপক্ষকে দাঁড়াতেই দিতে চাচ্ছে না ক্ষমতাসীনরা। এক ইউএনওর হাত থেকে নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ছিড়ে ফেলেছে সরকারি দলের লোকেরা। তারপরও অনেক স্থানে দেশের মানুষ লাঙ্গলে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন।’ 

এ অবস্থায় জাতীয় পার্টিকে আরও সুসংগঠিত করতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন তিনি।

মত বিনিময় সভায় কিশোরগঞ্জের ব্যবসায়ী মো. রুকুন উদ্দিন ভূঁইয়া এবং কবি আসাদুজ্জামান আসাদ জাপা চেয়ারম্যানের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন।