বান্দরবানে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী হত্যার দায়ে মো. আবুল কালাম নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার  দুপুর ১১টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ মো. এহ্সানুল হক এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আবুল কালাম(৪৫) নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৩নং ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ি ঠান্ডা ঝিরি ৩নং ওয়ার্ডের মৃত মকবুল আলীর ছেলে। তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম একই এলাকার মো. সৈয়দ আলমের মেয়ে।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বেদারুল আলম জানান, ২০১৩ সালে ১৭ মার্চ সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ি ঠান্ডা ঝিরি এলাকায় এ হত্যার ঘটনা ঘটে। পারিবারিক কলহের জেরে মো. আবুল কালাম তার দ্বিতীয় স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে লাঠি দিয়ে মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলে মনোয়ারা মারা যান। হত্যা পর পরই  আবুল কালাম পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১৭ মার্চ নিহত মনোয়ারা বেগমের বাবা মো. সৈয়দ আলম বাদী হয়ে জামাতা মো. আবুল কালামের বিরুদ্ধে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় এজাহার দায়ের করেন। মাললার তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর মো. আবুল কালামকে অভিযুক্ত করে চূড়ান্ত প্রতিদেন দাখিল করে।

মামলার শুরু থেকে আসামি পলাতক থাকায় আদালত থেকে আসামির জন্য এসডিএল নিয়োগ করা হয়।  আদালত ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। পরে আসামি গত বছর ৩ নভেম্বর আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠান। শুনানি শেষে সোমবার আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।