চট্টগ্রাম নগরের তিনটি কমিউনিটি সেন্টারে সোমবার সকাল থেকে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে টিকা প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ জটলা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে এতে উপেক্ষিত ছিল স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানার বিষয়টি। 

সোমবার সকাল থেকে নগরের জামালখান এলাকার রিমা কমিউনিটি সেন্টার, আন্দরকিল্লা সিরাজদৌলা রোডের সেভেন-ইলেভেন কমিউনিটি সেন্টার এবং আগ্রাবাদ এক্সসেস রোডের আব্দুল্লাহ কমিউনিটি সেন্টারে একযোগে শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়। চট্টগ্রাম মহানগরীর ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থীকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যে এই কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিভাগ।

সরেজমিন তিন সেন্টারের সামনে ও চারপাশে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জটলা দেখা যায়। এসময় অনেকের মুখে মাস্ক ছিল না, এমনকি কোন সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা যায়নি কাউকে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানতে উদাসীন দেখা গেছে অভিভাবকদেরও। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী জানান, স্কুল শিক্ষার্থীসহ ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী সকল শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনতে বিশেষ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রথম দিনে নগরের তিনটি সেন্টারে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা প্রদান করা হয়েছে। তিন সেন্টারে ছয়দিন শিক্ষার্থীদের মাঝে টিকা প্রদান করা হবে। এই ক্যাম্পেইনে ৫০টিরও বেশি টিম দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়াও সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ দেড় শতাধিক সদস্যের স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিমও মাঠে রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফরিদুল হোসাইনী জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী এবং উপজেলাগুলোতে দিনে ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। নগরের পাশাপাশি ১৪ উপজেলায় চলছে টিকাদান কার্যক্রম।

এদিকে টিকা নিতে এসে নানা ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।