বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে আগামী বুধবার খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার স্বাধীনতা চত্বরে গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। তবে পুলিশের কাছ থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত এর অনুমতি পায়নি খুলনা জেলা বিএনপি।

সোমবার দুপুরে খুলনা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির এজাজ খান। তিনি অভিযোগ করেন, বুধবার ডুমুরিয়ায় বিএনপির গণসমাবেশ কর্মসূচি বানচালে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া এ কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে পুলিশের ইন্ধনে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ওই একই দিনে একই স্থানে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালনের জন্য আবেদন করেছে। 

গত রোববার ডুমুরিয়া থানার ওসি বিএনপিকে কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হবে না জানিয়ে বলেন, 'রাত থেকেই টের পাবেন এখানে কী ঘটে।' পরে রোববার সারারাত পুরো থানা এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশের চিরুনি অভিযান চলেছে।

আমির এজাজ খান বলেন, 'কেন্দ্র থেকে মহানগর ও জেলা সদরের বাইরে উপজেলা পর্যায়ে সমাবেশ আয়োজনের নির্দেশনা এলে দলীয় ফোরামে আলোচনায় আমরা ডুমুরিয়ায় কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিই। ৬ জানুয়ারি পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করে প্রশাসনের সহায়তা চাই। তিনি সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন। এরপর ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের স্বাধীনতা চত্বর মাঠ ব্যবহারের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এবং মাইক ব্যবহার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য থানার ওসি বরাবর লিখিত আবেদন করি। প্রাথমিকভাবে তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিললেও হঠাৎ পরিস্থিতি পাল্টে যায়। জানতে পারি, ছাত্রলীগ-যুবলীগ একই দিনে একই স্থানে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করবে বলে থানায় দরখাস্ত করেছে।'

এরপর বিএনপির শীর্ষ নেতারা ওসির সঙ্গে দেখা করতে গেলে তার আচরণ পাল্টে যায় এবং কোনোমতেই ডুমুরিয়ায় বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, 'জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও আমরা সমাবেশ সফল করব।' সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও বিশেষ অতিথি থাকবেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মশিউর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা প্রশ্ন রাখেন, স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ১০ তারিখ। কেন সেটিকে ১২ তারিখে পালন করতে হবে? দেশে কি আর কোথাও জায়গা নেই? ডুমুরিয়ায় এক সপ্তাহ আগে বিএনপির নির্ধারিত ভেন্যুতেই কেন তাদের কর্মসূচি দিতে হবে?

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মুজিবর রহমান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, জেলা সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী, মহানগর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম জহির ও জেলা সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হোসেন বাবু।

এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষে জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতারা গণসমাবেশ কর্মসূচি সফল করতে মহানগরী এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন। থানার মোড় থেকে কর্মসূচি শুরু হয়ে পিকচার প্যালেস, বড় বাজার, হেলাতলা, কে ডি ঘোষ রোড, নগর ভবন, কেসিসি মার্কেট ও আদালত এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়।

এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া থানার ওসি মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগ বুধবার অনুষ্ঠান করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছে। এর অনুলিপি তারা থানায় দিয়েছে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আবেদন করা হয়নি। কাউকে এখনও সেখানে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।