খুলনার কয়রার এক দম্পতি ও তাদের শিশুসন্তানকে নির্মমভাবে হত্যার রহস্য প্রায় আড়াই মাস পর উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। পরকীয়ায় বাধা, বিকৃত যৌন লালসা ও প্রতারণামূলক আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। হত্যায় সরাসরি অংশ নেয় অন্তত ছয়জন।

কয়রা উপজেলায় বামিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান ওরফে হাবিবুল্লাহ, তার স্ত্রী বিউটি বেগম ও ১২ বছরের মেয়ে হাবিবা সুলতানা টুনিকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। এর আগে মা ও মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে ঘাতকরা।
খুলনার পুলিশ সুপার (এসপি) মাহবুব হাসান সোমবার তার সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, চাঞ্চল্যকর এ মামলায় অন্যতম আসামি আবদুর রশিদ গাজী, জিয়াউর রহমানসহ মোট ১৫ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রশিদ গাজী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত বছর ২৬ অক্টোবর সকালে পুলিশ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওই দিন হাবিবুল্লাহর মা কোহিনুর বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তদের আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে কয়রা থানা পুলিশ ও বর্তমানে ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।
গত শনিবার যশোরের অভয়নগর থেকে অন্যতম আসামি আবদুর রশিদ গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তার জবানবন্দি অনুযায়ী আরও সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা হচ্ছে সাইফুল ইসলাম বাবলু, আল আমিন হোসেন, আসলাম সরদার, আবদুল ওহাব ওরফে হক, তাসলিমা, শামীমুল ইসলাম অঞ্জন ও মোস্তফা কামাল। এর আগে মামলার পরপরই জিয়াউর রহমান, রাজিয়া সুলতানা, রহমানসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসপি জানান, ঘটনার পর থেকে রশিদ গাজী পলাতক ছিল। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে, একই গ্রামের জিয়াউর রহমান ও রাজিয়া সুলতানার পরকীয়ায় হাবিবুল্লাহ বাধা দেন। সে কারণে জিয়াউর ক্ষিপ্ত হয়। জিয়াউর ও সামছুরের নেতৃত্বে গত ২৫ অক্টোবর রাত ১২টার দিকে দুর্বৃত্তরা ওই বাড়িতে গিয়ে হাবিবুল্লাহ, তার স্ত্রী ও মেয়ের হাত-পা বাঁধে। এরপর মা-মেয়েকে ধর্ষণের পর তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে দেয়।
এসপি বলেন, গ্রেপ্তার ছয়জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ সুপার বলেন, তক্ষক ও সীমানা পিলার বিক্রি সংক্রান্ত টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল কিনা, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে সবকিছু বিস্তারিত জানানো হবে। শিগগিরই এ মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।