সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে গত শুক্রবার থেকে কয়লা, পাথরসহ পণ্য আমদানি করছেন না বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এ স্থলবন্দরে অটো এসএমএস সফটওয়্যার পদ্ধতি তথা ডিজিটাল কার্যক্রম শুরু হলেও ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডাউকি স্থলবন্দরের আধুনিকীকরণ এখনও শেষ হয়নি। এখনও সেখান থেকে ম্যানুয়াল তথা ফিতা দিয়ে পণ্য মেপে বাংলাদেশে পাঠিয়ে থাকেন সেখানকার রপ্তানিকারকরা।
দুই দেশের দুই স্থলবন্দরের কার্যক্রম একই পদ্ধতিতে সমন্বয় না করে অটোমেশন পদ্ধতি শুরু করায় ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি বন্ধ রেখেছেন। তারা চান, এ কার্যক্রম একই সঙ্গে দুই দেশেই শুরু করা হোক। এর ফলে সরকার প্রতিদিন রাজস্ব হারাচ্ছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, ডাউকি স্থলবন্দরকে আধুনিক করার কার্যক্রম শেষ হতে আরও কয়েক মাস লেগে যাবে।
প্রসঙ্গত, ভারতের মেঘালয় ও শিলং থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে কয়েকশ ট্রাক তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আসে। ২০২১ সালে তামাবিল স্থলবন্দরে অটোমেশন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত শুক্রবার থেকে তা চালু করা হয়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এ সফটওয়্যার চালু করে।
একই পদ্ধতি চান ব্যবসায়ীরা :তামাবিল স্থলবন্দরের উপপরিচালক মো. মাহফুজুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ডিজিটালাইজেশনের অংশ হিসেবে অটো এসএমএস পদ্ধতি চালু হয়েছে। এটি স্থগিতের এখতিয়ার তাদের নেই।
কিন্তু নতুন পদ্ধতিতে আমদানি করতে রাজি নন সিলেটের আমদানিকারকরা। তামাবিল কয়লা-পাথর আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি মো. লিয়াকত আলী সমকালকে বলেন, তারা স্থলবন্দর ডিজিটালাইজেশনের বিপক্ষে নন। তবে তারা চান, একসঙ্গে একই পদ্ধতিতে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি হোক।
তিনি জানান, নতুন এ পদ্ধতিতে প্রতিটি গাড়ি স্কেলে ওঠার পর ব্যাংকের নামসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু লিখে দিতে হবে। আমদানিকারকের মোবাইলে এসএমএস পৌঁছার পর গাড়ি স্কেল থেকে নামানো হবে। এতে একটি গাড়ির পেছনে সময় লাগবে ৫-৬ মিনিট। ফলে নির্ধারিত সময়ে দুইশ গাড়ি বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে না। পাশাপাশি দুই দেশের দুই মাপের কারণে ওজনের হেরফেরও হবে।
গত ১৪ অক্টোবর স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীকে তামাবিল স্থলবন্দরে অটোমেশন পদ্ধতিতে স্কেল পরিমাপ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠিও দিয়েছিলেন। গত শনিবার মেঘালয় ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোর্টার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ডলি খনলা তামাবিল চুনাপাথর আমদানিকারক গ্রুপকে চিঠি দিয়ে তাদের বন্দর নির্মাণ ও সফটওয়্যার পদ্ধতি চালুর অগ্রগতি বিষয়ে অবগত করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের সংশ্নিষ্টদের বিষয়টি বিবেচনার দাবি করে বলেন, একই পদ্ধতি চালু হলে উভয় দেশের সরকার সঠিক রাজস্ব পাবে।
বন্দর খোলা, আমদানি বন্ধ :স্থলবন্দরের চেয়ারম্যান, অতিরিক্ত সচিব মো. আলমগীর বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। দেশের আরও চারটি বন্দরেও এ পদ্ধতি আছে। আমরা আমদানিকারকদের বলেছি, প্রয়োজনে তাদের লোক রাখতে। তামাবিল স্থলবন্দর বন্ধ করা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, আমদানিকারকরা পণ্য আমদানি করছেন না। তবে বন্দরটি বন্ধ না করা হলেও আমদানি করছেন না ব্যবসায়ীরা। আগে প্রতিদিন সেখান থেকে ৪০-৫০ লাখ টাকার রাজস্ব পেত সরকার। এখন আমদানি না হওয়ায় কোনো রাজস্ব আসছে না। এমনকি বন্দরের শ্রমিকরাও বেকার হয়ে পড়েছেন। পুরো বিষয়টি বিবেচনার দাবি করেছেন সিলেটের আমদানিকারকরাও।