ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে জাহাঙ্গীর আলম বাবুল (৪০) নামের এক কৃষককে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের আমিরখাঁকুড়া গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত জাহাঙ্গীর আলম বাবুল একই এলাকার  প্রয়াত আবদুল করিম মাস্টারের ছেলে।

পুলিশ ও নিহত কৃষকের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির সামনে খড়ের গাদার পাশে বাবুলের রক্তাক্ত দেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। ওই সময় তার স্ত্রী-সন্তান  বাড়িতে ছিলেন না। বাবুলের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ময়না সন্তানদের নিয়ে তিনদিন আগে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। পরে স্বামীর লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে আসেন। পুলিশ মরদেহটি দুপুরে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

নিহত কৃষকের ভগ্নিপতি আবদুল জব্বার জানান, বাবুলের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়িতে এসে তিনি ঘরে টিভি চলতে দেখেন। ঘরের দরজাও তখন খোলা ছিল। তার ধারণা, ঘর থেকে ডেকে নিয়ে অথবা ঘর থেকে কোনো কারণে বের হওয়ার পর দুর্বৃত্তরা বাবুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

নিহতের স্ত্রী মনোয়ারা আক্তার ময়না জানান, তার স্বামী কিছু জমি বন্ধক দিয়ে রেখেছিলেন। সেই জমি ছাড়ানোর জন্য পাওনাদারদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে ঘরে প্রায় ২ লাখ টাকা রাখা হয়েছিল। তার দাবি, দুর্বত্তরা তার স্বামীকে হত্যা করে সেই টাকা নিয়ে গেছে। তবে কারা এমন ঘটনা ঘটাতে পারে তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

ভূবনকুড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সুরুজ মিয়া বলেন,বাবুল খুব নিরীহ প্রকৃতির। তবে মাঝে মাঝে জুয়ার আসরে বসার অভ্যাস ছিল তার। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে রাতের বেলায় জুয়াড়ি ও মাদকসেবীরা বাবুলকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।

হালুয়াঘাট থানার ওসি মো. শাহীনুজ্জামান খান বলেন, নিহতের মাথার পেছনের দিকে আঘাত বেশি। তবে পুরো মাথা জুড়েই আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করা হয়। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কী কারণে হত্যাকাণ্ডের ঘটেছে তা উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।