উত্তরের জনপদে জাকিয়ে বসেছে শীত, জবুথবু জনজীবন। ভারী লেপ বা কম্বল তো দূরে থাকুক; শীত নিবারণে নেই সামান্য শীতবস্ত্র। দূর জনপদে সেসব শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ও আল খায়ের ফাউন্ডেশন। 

এই দুই সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর, ধামোর, রাধানগর ইউনিয়নের নলপুখরি, সরদারপাড়া, লক্ষীপুর, ছোটদাপসহ ১০ গ্রামের ৩০০ শীতার্ত ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে শীতের কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

শীতের কম্বল পেয়ে লক্ষীপুর এলাকার বৃদ্ধ পয়জত আলী (৬৫) বলেন, ‘এর আগত গতবার একখান পাতলা কম্বল পাইছুনু। আইজকার কম্বলখান ভালো মোটা। মনডা কহছে এই একখান কম্বল নিয়ে বাড়ির সবাকে নেহেনে নিন্দা যাবে। হামার লেপ আর মোটা কম্বল নাই। এই তানে রাইতত ঠিক মতন নিন ধরে না।’

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের নলপুখরী গ্রামের ষাটোর্ধ শুকুরু মোহাম্মদ বলেন, ‘মাঘ এলাও আসে নাই। তাহে কয়দিন থিকে খুব ঠান্ডা পইচ্ছে। লেপ তোষুক তো হামার নাই। রাইতত বাসাতের তানে নিন্দাবা (ঘুমানো) পারুনা। খুব ভোরে উঠে হেনে আগুন ধরায় ছুয়াপুতা নেহেনে আগুন তাপি। রাইতত নিন্দাবার তানে একখান কম্বল খুর দরকার ছিল। আল্লাহ তুমহাক ভালো করুক’।

আটোয়ারী উপজেলার মির্জা গোলাম হাফিজ ডিগ্রি কলেজ মাঠে শীতের কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদ চেয়্যারম্যান মো. তৌহিদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মুসফিকুল আলম হালিম ও কলেজের অধ্যক্ষ কাজী ফজলে বারি সুজা সম্মানিত অতিথি ছিলেন। 

এ সময় দৈনিক সমকালের সহকারী সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম আবেদ, আল খায়ের ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারেক মাহমুদ, আটোয়ারী প্রেসক্লাবের সভাপতি জিল্লুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু রায়হান রকি, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইউসূফ আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম, সমকাল এর পঞ্চগড় প্রতিনিধি সফিকুল আলম, পঞ্চগড় সমকাল সুহৃদ সমাবেশের ইকবাল বাহারসহ সুহৃদ সমাবেশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আটোয়ারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সমকাল একটি জনপ্রিয় পত্রিকা। পাঠকের চাহিদা পুরনের পাশাপাশি সমকাল সুহৃদ সমাবেশের পক্ষ থেকে এমন সামজিক উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়।’ 

তিনি আটোয়ারী উপজেলার শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমকাল সুহৃদ সমাবেশ এবং আল খায়ের ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মুসফিকুল আলম হালিম বলেন, ‘সবচেয়ে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। এখানে শীত অন্য এলাকার তুলনায় বেশি অনুভূত হয়। সরকারিভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। অনেকে ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন। তবে এখানকার চাহিদার তুলনায় তা অনেক কম। দেশের এমন একটি দুর্গম এলাকায় দুস্থ ও শীতার্ত মানুষদের উষ্ণতা তথা ভালোবাসা প্রদানের জন্য সমকাল সুহৃদ সমাবেশ এবং আল খায়ের ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা।’ 

সপ্তাহজুড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পর মঙ্গলবার সর্বনিম্ন ১১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস।