দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে নদী পার হতে আসা অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, সেই সঙ্গে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি স্বল্পতায় দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট অভিমুখে মঙ্গলবার নদী পারের অপেক্ষায় শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে ১৫/২০ ঘণ্টা, এমনকি দিনের পর দিনও অপেক্ষা করতে হচ্ছে পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানগুলোকে। 

মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিন দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত তিন শতাধিক যানবাহন পারের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে যাত্রীবাহী যানবাহন ও পচনশীল পণ্যবাহী পরিবহনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে। এছাড়াও ফেরিঘাটের যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোয়ালন্দ মোড় থেকে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের কল্যাণপুর পর্যন্ত ফেরি পারের অপেক্ষায় আটকা রয়েছে আরও প্রায় দুই শতাধিক যানবাহন।

চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা দর্শনা ডিলাক্স পরিবহনের যাত্রী শামীমুল হক জানান,  প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা হলো দৌলতদিয়া ঘাটে এসে মহাসড়কের উপর সিরিয়ালে আটকে আছি। কখন ফেরি পাব জানি না। দিনের পর দিন এ ভোগান্তি লেগেই আছে।

যশোর থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক চালক আজিম শেখ বলেন, গত সোমবার সন্ধ্যায় গোয়ালন্দ মোড়ে এসে সিরিয়ালে আটকা পড়ি। সেখান থেকে মঙ্গলবার সকালে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে আবার সিরিয়ালে আটকা পড়েছি। এখন বেলা ৩টা বাজে, এখনো ফেরি ঘাট থেকে বেশ দূরে আছি। গত কয়েকদিন ঘাট পরিস্থিতি ভালোই ছিল। এখন আবারও সেই পুরোনো ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতিদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শিহাব উদ্দীন বলেন, হঠাৎ করে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৫টি ফেরি চলাচল করছে। আজ সন্ধ্যার আগেই আরও একটি ফেরি বৃদ্ধি পাবে। তখন হয়তো ভোগান্তি কমে যাবে। তবে রাতে কুয়াশায় ফেরি বন্ধ হলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে।