রাজশাহী হাজী আবুল হোসেন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (আর-হ্যাবিট) রাফিউল ইসলাম রাফি নামের এক শিক্ষার্থী বিষপানে আত্মহত্যা চেষ্টা চালিয়েছেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক মিটিংয়ে সবার সামনে উপাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে অপমান করেন। এসময় উপাধ্যক্ষ তার জন্মপরিচয় নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এ অপমান সইতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা চেষ্টা করেন রাফি। 

গত রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটলেও সোমবার রাতে রাফির বিষপান ও হাসপাতালে ভর্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। রাফির বাড়ি পুঠিয়া উপজেলার কান্দ্রা গ্রামে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটার বিভাগের দ্বিতীয় পর্বের শিক্ষার্থী। তার বাবা রবিউল ইসলাম কান্দ্রা দাখিল মাদরাসার শিক্ষক।

রাফির ভাই ইফতেখারুল ইসলাম সাব্বির বলেন, মাসিক মিটিংয়ে রাফি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে এর মানোন্নয়নের দাবি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হন উপাধ্যক্ষ। তিনি রাফিকে জিজ্ঞেস করেন, 'তোমার বাবা কি করেন?' উত্তরে রাফি বলেন, 'বাবা শিক্ষকতা করেন।' তখন উপাধ্যক্ষ অশ্লীল ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, 'তুমি শিক্ষকের ছেলে নও। তুমি শিক্ষকের ছেলে হলে এভাবে কথা বলতে না। তোমার বাবা যিনি শিক্ষক তুমি তার ছেলে নও। তোমার জন্মদাতা কে সে প্রশ্ন থেকে যায়।'

অভিযুক্ত উপাধাক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুন

সাব্বির আরও বলেন, এভাবে সবার সামনে অপমান করার কারণে রাফি মেসে ফিরে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে মেসের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। রাফি সুস্থ হলে তারা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান সাব্বির।

এদিকে শিক্ষকের অপমানের পর আত্মহত্যার ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন রাফি। ওই স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, 'মানুষকে এতটাও কষ্ট দেওয়া উচিত না যে সে আমার মতো কাজ করে। আজ দুই মাস থেকে আমি R-HABHIT এর কিছু স্যারের কাছে থেকে অনেক অপমানজনক কথা শুনেছি, আমি যখন এই কথাগুলো ভাইস প্রিন্সিপাল স্যারকে বলি উনি আমাকে অপমান করেন খুব। আমি চাই না আমার মতো কারো পরিস্থিতি হোক। হয়তো ভুল করেছি তাই বলছি, স্যার আমাকে মাফ করে দিয়েন। কিন্তু আমার বাবা-মা নিয়ে কথা বলা উচিত হয়নি আপনার। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি আপন কেউ হলে সেটা হলো আমার বাবা-মা। যাই হোক, কারো সাথে যদি অন্যায় করে থাকি আমাকে মাফ করে দেবেন। যার যার জায়গা থেকে আমরা নিজেরা অসুখী। এই ব্যস্ত জীবনকে বিদায় দিলাম। সকলের ভবিষ্যত জীবনের জন্য শুভ কমনা রইলো। আমি শুধু কষ্টগুলোর ভার বহন করতে পারছি না।'

এ বিষয়ে জানতে প্রতিষ্ঠানটির উপাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুনের দুটি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।