চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগে এবার বয়ান বদলে গেল চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত পিপি) মো. কামাল উদ্দিনের। 

সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিনকে প্রশংসায় ভাসিয়ে তিনি বলেন, ‘কামালের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার জন্য তার অজ্ঞাতে সাতকানিয়ার আওয়ামী লীগ নেতা হুসেইন কবির এমপির নামে চেক লিখিয়ে নেন ও নগদ টাকা নেন বলে ফেসবুক লাইভে এসে বক্তব্য দেন। একই সঙ্গে মিডিয়ায় ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’

৪ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের ফেসবুক লাইভে এসে অতিরিক্ত পিপি কামাল উদ্দিন বলেন, ‘সম্প্রতি ফেসবুক থেকে প্রচারিত পোস্ট সম্পর্কে বক্তব্য জানানোর জন্য আজ (মঙ্গলবার) ফেসবুক লাইভে আসলাম। আমার প্রিয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন চৌধুরী এমপির সম্পূর্ণ অজান্তে ও অজ্ঞাতে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার ঘৃণ্য মানসে পরিকল্পনা করে সাতকানিয়া থানা আওয়ামী লীগের উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুসেইন কবির আমাকে সাতকানিয়ার সোনাকানিয়া ইউপির নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাইয়ে দেবেন বলে ঘোষণা দিয়ে নগদ টাকা ও চেক গ্রহন করেন। তার ব্যক্তিগত অপকৌশলে ব্যবহার করে আমার নিকট থেকে নেওয়া চেকে আমার প্রিয় নেতা মোছলেম উদ্দিনের নাম প্রাপক হিসেবে লেখিয়ে নেন। কিন্তু হুসেইন কবির আমার মনোনয়ন পাওয়ার জন্য কিছুই করেন নাই। তাই হুসেইন কবিরের উপর রাগান্নিত হয়ে ফেসবুকে কিছু বক্তব্য পেশ করেছিলাম। কিন্তু আমার প্রিয় নেতা, জননেতা মোছলেম উদ্দিন এমপিকে জড়িত করে বক্তব্য পেশ করি নাই।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন মিডিয়ায় আমার বক্তব্য প্রকাশ হওয়ার পর জানতে পারি হুসেইন কবির আমার নেতার অজান্তে এসব কাজ করেছেন। মোছলেম ভাইকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ও আমার নেতা মোছলেম ভাইয়ের অজান্তে এসব কাজ করেছেন। এতে মোছলেম ভাইয়ের সম্পৃক্ততা ছিল না ও নেই। আমার নেতা মোছলেম ভাইকে জড়িয়ে বক্তব্য প্রদান করায় আমি অনুতপ্ত। আমার অজ্ঞাতবশার কারণে আমি অনুকম্পা প্রার্থনা করছি।’

প্রসঙ্গত, ফেসবুকে এমপি মোছলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে অতিরিক্ত পিপি কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে নালিশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

সোমবার চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান মামলাটি গ্রহণ করেছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৩, ২৫, ২৯ ও ৩১ ধারায় মামলাটির আবেদন করেন সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুসেইন কবির। আদালত অভিযোগটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবাদী মো. কামাল উদ্দিন সাতকানিয়ার গারাংগিয়া গ্রামের সুপার পাড়ার ফজল করিমের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের আইন বিষয়ক সহ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

গত ৬ জানুয়ারি বেলা দুইটায় নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন লিখেছেন, 'আসন্ন ১৭ নম্বর সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাইয়ে দিবে বলে সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুসেইন কবির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোছলেম উদ্দিন আহমদ এমপির নাম দিয়ে আমার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকার চেক নিয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমাকে মনোনয়ন দেওয়া তো দূরে থাক, কেন্দ্রে আমার নামটি পর্যন্ত পাঠায়নি।'

সেই চেক ও টাকা ফেরত চেয়ে আইনজীবী কামাল উদ্দিন লিখেছেন, 'এখন আমি আমার চেক ও টাকা ফেরত চাই। অন্যথায় বিষয়টি নিয়ে আমি তৃণমূলের আশা ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল জননেত্রী শেখ হাসিনার দ্বারস্থ হব এবং ফৌজদারি মামলা করতে বাধ্য হব।'

এ ঘটনার জেরে অতিরিক্ত পিপি কামাল উদ্দিনকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার করেছে সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ।