দীর্ঘদিন প্রেমের পর ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করেছিলেন রেশমা খাতুন (২০)। কিন্তু তার কপালে সুখ সইল না। বিয়ের মাত্র দুই মাস পরই যৌতুকের বলি হতে হলো তাকে। যৌতুকের ৫০ হাজার টাকা না পেয়ে রেশমা খাতুনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। তারা রেশমা খাতুনের মরদেহ বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে বাড়িঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়েছে। গত সোমবার গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের চকনদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সংবাদ পেয় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রেশমার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ নিয়ে থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে।

নিহতের বড় ভাই সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া গ্রামের জামাত আলীর ছেলে মিলন মিয়া থানায় লিখিত এজাহারে উল্লেখ করেছেন, প্রেম করে গত বছর ৮ নভেম্বর রেশমা ও পাশের চকনদী গ্রামের জয়নুল আবেদিনের ছেলে ছাব্বির হোসেন (২১) বিয়ে করেন। এরপর থেকেই স্বামী ও তার শ্বশুর-শাশুড়ি বিভিন্ন কারণে রেশমার ওপর নির্যাতন চালাতেন। এ নিয়ে স্থানীয় ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়। এরই মধ্যে রেশমাকে যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দেয় স্বামী ছাব্বির। কিন্তু বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের ৫০ হাজার টাকা এনে দিতে না পারার কারণে ৯ জানুয়ারি রাতে তাকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন সোমবার নির্যাতনের এক পর্যায়ে তিনি মারা যান। তার মরদেহ বাড়ির উঠানে চৌকির ওপর রেখে ঘর তালাবদ্ধ করে স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ি বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। তারা এখন আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

একজন প্রতিবেশীর মাধ্যমে খবর পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে রেশমার মরদেহ দেখে থানায় জানান তার ভাই মিলন মিয়া। পরে ১০ জানুয়ারি বিকেলে সাদুল্যাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। মিলন মিয়া জানান, তার বোনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

সাদুল্যাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মশিউর রহমান জানান, এ নিয়ে নিহতের ভাই মিলন মিয়া বাদী হয়ে ১০ জানুয়ারি রাতে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় রেশমার স্বামী ছাব্বির হোসেন, তার শ্বশুর জয়নাল আবেদিন, শাশুড়ি সেতারা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা দু’জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একটি টিম মাঠে কাজ করছে।