রাতে একা ঘুমিয়ে ছিলেন নিজ ঘরে। সকালে বাড়ি থেকে ২০০ গজ দূরে সন্ধ্যা নদীতে মিলল মরিয়ম বেগম (৩৯) নামে এক বিধবা নারীর মৃতদেহ। মাথায় গুরুতর জখম থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। 

ঘটনাটি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের উত্তর ভূতেরদিয়া গ্রামে ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরিয়ম ওই গ্রামের মৃত হারুন অর রশিদের স্ত্রী। হারুন ১১ মাস আগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তাদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। 

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, মরিয়মের এক ছেলে ঢাকায় চাকরি করেন। দুই মেয়ে থাকেন স্বামীর বাড়িতে। ছোট ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আসিফকে নিয়ে স্বামীর ভিটায় থাকতেন তিনি। 

প্রতিবেশী জাহানারা বেগম জানান, ছেলে আসিফ বুধবার বিকেলে পাশের উপজেলা গৌরনদীর শরিকল গ্রামে বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। রাতে মরিয়ম ঘরে একা ছিলেন। একসঙ্গে স্কুলে যাওয়ার জন্য সহপাঠী জয় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আসিফকে ডাকতে তাদের বাড়িতে যায়। দরজা বন্ধ ও ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে সে ঘরের সামনে অপেক্ষা করতে থাকে।

তিনি জানান, জয় তাকে (জাহানারা) দেখে জানায় আসিফ ও তার মাকে ডেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। এসময় তিনি ঘরের পেছনে গিয়ে সেখানকার দরজা খোলা দেখেন। বাইরে মরিয়মের স্যান্ডেল পড়ে ছিল। ঘর থেকে নদীর দিকে যাওয়ার পথে ছোপ ছোপ রক্ত লেগে ছিল। এসব দেখে জাহানারা বেগম ডাকচিৎকার দিয়ে প্রতিবেশীদের জড়ো করেন। পরে তারা ২০০ গজ দূরে সন্ধ্যা নদীর তীরে মরিয়মের মরদেহ দেখতে পান। 

কেদারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরে আলম বেপারী জানান, খবর পেয়ে তিনি ও বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। 

বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, মরিয়ম বেগমের মাথায় গুরুতর জখম রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শক্ত কোনোকিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে একাধিক দুবৃর্ত্ত অংশ নিয়েছে বলে ধারণা। তিনি হত্যার আগে ধর্ষণের শিকার হয়েছে কি-না তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাবে না।