যুক্তরাজ্যজুড়ে সে সময় লকডাউন চলছিল। সংক্রমণ রুখতে জনসমাবেশ ও পার্টিসহ সবকিছুর ওপরেই নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। সেই সময় ২০২০ সালের ২০ মে'তে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে ৪০ জনকে নিয়ে গার্ডেন পার্টি করেছিলেন বরিস জনসন। সম্প্রতি সেই পার্টির অতিথিদের কাছে পাঠানো ইমেইল ফাঁসের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর এই তথ্য সামনে আসে। আর এতেই বিতর্কের মধ্যে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। 

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লকডাউনের মধ্যে মদের পার্টির খবর জেনে জনগণের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া। তোপের মুখে পার্লামেন্টে ক্ষমা প্রার্থনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মানুষের ক্রোধের কারণটি তিনি বুঝতে পারছেন।

ব্যাপারটি সেখানেই থেমে যেতে পারতো কিন্তু নিজের দল ও বিরোধী দলের নেতারা চাইছে, বরিস জনসন পদত্যাগ করুক। স্কটল্যান্ডে টোরি পার্টির নেতা ডাগলাস রস বলছেন, তিনি দলের '১৯২২ কমিটি‌'র কাছে লিখবেন যাতে দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি শুরু করা যায়। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভের নতুন নেতা নির্বাচন করতে হলে অন্তত ৫৪ জন এমপির প্রত্যেককে দলের কাছে আলাদাভাবে লিখতে হবে।

পার্টির আমন্ত্রণপত্র ইমেইল করে বলা হয়েছিল, 'ভয়ংকর ব্যস্ত সময়ের পর সুন্দর আবহাওয়ার সুযোগ নিন। আমরা সামাজিক দূরত্ব মেনে ১০ নম্বরের বাগানে সন্ধ্যায় জড়ো হবো। দয়া করে ৬টার সময় আসবেন এবং নিজের মদ নিজে নিয়ে আসবেন।'

বুধবার পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে এই ঘটনার জন্য বরিস জনসনকে বারবার করে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। তিনি জানান, ঐ পার্টিতে ২৫ মিনিটের জন্য যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তার ধারণা ছিল 'কাজের অংশ হিসেবে' তার স্টাফদের ধন্যবাদ দেয়ার জন্য ঐ পার্টির আয়োজন করা হয়।

নিজের ভুল বুঝতে পেরে জনসন বলেন, 'এখন আমার মনে হচ্ছে, অন্য কোনভাবে তাদের ধন্যবাদ জানানো উচিত ছিল। আমার বোঝা উচিত ছিল লক্ষ লক্ষ মানুষ বিষয়টাকে এভাবে নাও দেখতে পারেন।'

সেদিনের ঐ পার্টির আয়োজন করে কোভিড সংক্রান্ত কোন আইন ভঙ্গ করা হয়েছিল কীনা, তা যাচাই করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেশ করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ততক্ষণ পর্যন্ত পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকবে।