বড় দুই ভাই রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের টাকায় পড়াশোনা আর ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন নয়ন শেখ। স্বপ্ন দেখতেন রাজনীতি করে বড় নেতা হবেন, মানুষের সেবা করবেন। বড় ভাই মানিক শেখ ও রতন শেখও এমন স্বপ্ন দেখতেন তাদের ভাই নয়নকে নিয়ে। কিন্তু সে স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। 

বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীপুরের কাওরাইদ বাজারে প্রকাশ্যে ছাত্রলীগ নেতা নয়ন শেখকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। 

জানা যায়, কাওরাইদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী বেলদিয়া গ্রামের মৃত আবদুল কাদিরের ছেলে নয়ন শেখ ঘাতকদের হাত থেকে বাঁচার জন্য পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা তার হয়নি।

নয়নের দুই ভাই মানিক শেখ ও রতন শেখের অভিযোগ, কাওরাইদ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী খায়রুল ইসলাম মীর ও তার অনুসারীরা পুকুরে নেমেই নয়ন শেখকে পিটিয়ে হত্যা করে।

এদিকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নয়নের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বাড়িতে আনা হয়। লাশ বাড়িতে নিয়ে আসার পর পরিবার, আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশী ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠে সেখানকার বাতাস। পরে সন্ধ্যা ৭টায় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

নয়ন শেখের বৃদ্ধা মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার কলিজার টুকরা নয়নের হত্যাকারীদের বিচার চাই। আমি কি বিচার দেখে বিদায় নিতে পারব?

কাওরাইদ কেএন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতা খায়রুল ইসলাম মীরের ছেলে অনুভব মীরের সঙ্গে নয়ন শেখের ঝগড়া হয়। এ ঘটনা এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে গড়ায়।

নিহতের স্বজনরা জানান, এ ঘটনার পর কাওরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসে খায়রুল মীর নয়নকে ডেকে আনে। ঘণ্টাখানেক অবরুদ্ধ করেও রাখেন। সেখানে থাকা মীরের লোকজন নয়নের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আত্মরক্ষার জন্য নয়ন পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেয়। পরে পুকুরেই নয়নকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

নিহতের ভাই রতন শেখ ও মানিক শেখ জানান, ক্রিকেট খেলায় ঝামেলা হওয়ার পর থেকেই, কাওরাইদ বাজারে অস্ত্র হাতে মহড়া দেন খায়রুল মীর ও তার লোকজন। এক পর্যায়ে দলীয় কার্যালয়ের ভেতর ঢুকে নয়ন শেখের ওপর হামলা চালানো হয়। নয়ন পুকুরে ঝাঁপ দিলে সেখানেই তাকে হত্যা করা হয়। নয়নকে নিয়ে দেখা আমাদের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। 

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল আলম রবিন বলেন, কাওরাইদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নিবেদিত প্রাণ ছিল নয়ন শেখ। নয়নের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দ্রুততম সময়ে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানাই।

শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকিরুল হাসান জিকু বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। নয়নের মতো ছাত্রলীগের একজন নেতাকে তারা প্রকাশ্যে খুন করেছে। 

স্থানীয়রা জানান, ২০১৭ সালে কাওরাইদ কে এন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে  ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে আরিফ হোসেন নামে  এক ছাত্র খুন হয়। আরিফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন নয়ন শেখ। এবার ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জের প্রাণ হারাতে হলো নয়নকে।  

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, নিহত নয়ন শেখের বড় ভাই রতন শেখ বাদী হয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন। প্রধান আসামি করা হয়েছে খায়রুল ইসলাম মীরকে। নয়ন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

আরও পড়ুন>>  গাজীপুরে ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ