ফরিদপুরে প্রসব করাতে গিয়ে নবজাতকের কপাল কেটে ফেলার ঘটনায় পাঁচ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া বেসরকারি ওই হাসপাতালটি বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।  

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা ও বিকেলে হাসপাতালটির পরিচালক, চিকিৎসক, নার্স এবং দালালসহ পাঁচ জনকে আটক করে পুলিশ। আর দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালটির সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। 

এর আগে শনিবার সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন আল-মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতেই প্রসূতি মায়ের পেট থেকে নবজাতক বের করতে গিয়ে তার কপালের একটি অংশ কেটে ফেলেন নার্স ও দুই আয়া। 

এই ব্যাপারে রোগীর লোকজন প্রশাসনে অভিযোগ জানালে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ গিয়ে চায়না বেগম নামের এক নার্স এবং হাসপাতালের পরিচালক জাকারিয়া রহমান মোল্লা পলাশ ও আল হেলাল মোল্লাকে আটক করে। এছাড়া বিকেলে এক চিকিৎসক ও এক দালালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। এই ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি তদন্ত আব্দুল গাফ্ফার। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দক্ষিণ উজানচর ময়েজউদ্দিন মন্ডল পাড়ার শফিক খানের স্ত্রী প্রসূতি রুপা বেগমকে শনিবার ভোরে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। সকালে হাসপাতালটিতে কোনো লোক না পেয়ে অপেক্ষায় থাকে পরিবারটি। পরে দালালদের উসকানিতে পার্শ্ববর্তী আল-মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করেন তারা। সেখানে চিকিৎসক ছাড়াই নার্স ও দুই আয়া প্রসূতি মায়ের পেট থেকে নবজাতক বের করতে গিয়ে শিশুটির কপালের একটি অংশ কেটে ফেলেন। 

বিষয়টি জানাজানি হলে প্রসূতির পরিবার থানায় ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন। পরে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান। এসময় হাসপাতালটির দুই পরিচালক ও নার্সকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় প্রসূতির পরিবার আল-মদিনার হাসপাতালর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আহত নবজাতকের ফুপু হোসনে আরা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সকাল ৮টার দিকে ওই প্রাইভেট হাসপাতালের চায়না বেগম ও দু’জন আয়া চিকিৎসক ছাড়াই প্রসূতির পেট থেকে বাচ্চা বের করতে গিয়ে শিশুটির কপালের একটি অংশ কেটে রক্তাক্ত করে ফেলেন। পরে দ্রুত বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গিয়ে ৯টি সেলাই দেওয়া হয় নবজাতকের কপালে।  এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই আমরা।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুল আলম জানান, এ জাতীয় ঘটনা কাম্য নয়। আমরা ইতোমধ্যে হাসপাতাল থেকে তিন জনকে আটক করেছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য বিভাগকে আমরা বলেছি। 

ফরিদপুর সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাতেমা করিম বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ ধরনের উদাসীনতা মেনে নেওয়া হবে না। আমরা প্রসূতি মায়ের অপারেশন ও এই জাতীয় কাজে নিয়োজিত কর্মীদের ডাটাবেজ তৈরি করছি। এ ব্যাপারে মনিটরিং জোরদার করা হবে।

ফরিদপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার জানান, আমরা প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির দুই পরিচালক ও  অভিযুক্ত নার্সকে আটক করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. সিদ্দিকুর রহমান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, দুপুর ২টার পর থেকে হাসপাতালের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ ঘোষাণা করা হয়েছে।