ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলা থেকে ঢাকার উদ্দেশে কোনো বাস রোববার থেকে চলবে না। গাজীপুরের সালনা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন কাজের স্লথ গতির কারণে ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে দাবি করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবহন মালিক সমিতি। শনিবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ বিভাগের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ বন্ধ রাখার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মো. মমতাজ উদ্দিন মন্তা।

গাজীপুরের সালনা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে স্লথ গতির উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ নিরসনে অবিলম্বে দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে গত ২ জানুয়ারি ময়মনসিংহ প্রেসকাবে সংবাদ সম্মেলন করে দ্য চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও ময়মনসিংহ জেলা মোটর মালিক সমিতি। ওই দিন ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেধে দিয়ে সড়কটি উপযোগী করে না দিলে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যেও দৃশ্যত উন্নতি না হওয়ায় রোববার থেকে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা থেকে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মো. মমতাজ উদ্দিন মন্তা সমকালকে বলেন, রাস্তা খারাপ থাকার কারণে যানবাহন চলতে না পারায় তারা বাধ্য হয়ে যানবাহন চলাচল থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাস্তার কাজ চললেও চলাচল উপযোগী রাখার কথা। কিন্তু তা করা হয়নি। ওই অবস্থায় তারা ঢাকার সঙ্গে সড়ক পথের যোগযোগ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ সড়কেও তাদের যান বন্ধ থাকবে। তিনি আরও বলেন, তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে শর্ত স্বাপেক্ষে গাড়ি চলাচল শুরু হতে পারে।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মো. মমতাজ উদ্দিন মন্তা লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছিলেন- ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট সময়ে গেলেও, গাজীপুর থেকে মহাখালী যেতে সময় লাগছে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টার মতো। এক্সপ্রেসওয়ের কাজও যেমন ধীর গতিতে এগুচ্ছে, তেমনি গাড়ি চলাচলের রাস্তাও বিভিন্ন খানা-খন্দে ভরা।

তিনি আরও জানিয়েছিলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের প্রতি মিনিটে ৭টি যাত্রিবাহী গাড়ি বিভিন্ন রোড থেকে গাজীপুর হয়ে ঢাকা অভিমুখে চলাচল করছে। হিসেব অনুযায়ী ঘণ্টায় যাতায়াত করছে ৪২০টি গাড়ি। ২৪ ঘণ্টায় চলাচল করছে দশ হাজার ৮০টি গাড়ি। বিভিন্ন যানজট রাস্তা খারাপের কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে তেল লাগে ২০ লিটার বেশি। হিসেব অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজার ৮০ গাড়িতে ২ লাখ এক হাজার ৬০০ লিটার তেল লাগে। যার অর্থমূল্য এক কোটি ৬১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। প্রতিদিন মালিকদের তেল বাবদ নষ্ট হচ্ছে ওই টাকা।