নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ্ জানিয়েছেন,  নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার গ্রেপ্তার ও হয়রানির বিষয়ে লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ দেননি।

গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে মোস্তাইন বিল্লাহ্ বলেন, যারা নির্বাচন বানচাল করতে পারে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে, দাগি আসামি—তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে তা করছে পুলিশ।

শনিবার দুপুর ২টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সিটি নির্বাচন নিয়ে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। জেলা প্রশাসক বলেন, ইতিমধ্যে সিটি এলাকার ২৭টি ওয়ার্ডের সব কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানো হয়েছে। ভোটের নিরাপত্তায় ৩৯ জন ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের ৭৫ ও র্যা বের ৬৫টি টিম মাঠে থাকবে। ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। আরও ৬ প্লাটুন বিজিবি চাওয়া হয়েছে। তারা ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। 

মোস্তাইন বিল্লাহ্ বলেন, নির্বাচনে আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে এ পর্যন্ত ২০০ মামলা হয়েছে। লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করা হয়েছে ও একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বহিরাগতদের নারায়ণগঞ্জে অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি বাসস্থান প্রশাসনের লোকজন ছাড়া কাউকে দেওয়া হয়নি। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের কথা আমরা জানি না, সেটা সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। নির্বাচনে কাউকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

সিসি ক্যামেরা খুলে ফেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা নেই। কিছু কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সেগুলো খুলে ফেলার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি মাঠে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হবে, কোনো শঙ্কাও নেই।

করোনার বিষয়ে মোস্তাইন বিল্লাহ্ বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সুরক্ষাসামগ্রী থাকবে। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে, মাস্ক পরে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দেবেন।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম, ৬২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল আমিন, র্যা ব-১১ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর মাহমুদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ফাতেমা তুল জান্নাত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।