ঝালকাঠির রাজাপুরে ডাকাতি মামলার আসামিকে সঙ্গে নিয়ে জুয়ার আসরে বসেছিলেন এক পুলিশ সদস্য। একই আসরে ছিলেন খাদ্য কর্মকর্তা ও সাবেক সেনাসদস্য। আসামি-পুলিশ-খাদ্য কর্মকর্তা যখন এক কাতারে মজে ছিলেন, তখনই অভিযান চালায় বেরসিক একদল পুলিশ। জুয়ার আসর থেকে ৫ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজাপুরের নৈকাঠি এলাকার আবুল কালাম মোল্লার বাড়িতে গত শুক্রবার রাতে এমন ঘটনা ঘটে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্য রাজাপুর উপজেলার পিংড়ী বামনখান এলাকার পুলক চন্দ্র হালদার, বাগড়ি এলাকার শামসুল সিকদারের ছেলে ও বেতাগী উপজেলায় কর্মরত খাদ্য কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম সিকদার, রোলা এলাকার হালিম খান ওরফে ডাকাত ছালাম, সাংগর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বিএনপি নেতা আব্দুল করিম বাবুল মৃধা ও সাতুরিয়া এলাকার পলাশ হাওলাদার। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, জুয়া খেলার ১৫ হাজার ৩৮০ টাকা ও তাস জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের বিষয়ে টের পেয়ে আগেই সটকে পড়েন বাড়ির মালিক।

রাজাপুর থানার ওসি পুলক চন্দ্র রায় জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য, একজন সাবেক সেনাসদস্য, একজন খাদ্য কর্মকর্তা, একজন ডাকাত রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে রাতেই জুয়া আইনে মামলা হয়েছে। শনিবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ওসি পুলক চন্দ্র রায় জানান, এলাকার চিহ্নিত ডাকাত হালিম খান ওরফে ডাকাত ছালামের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। সে একটি ডাকাতি মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি। আরেকটি হত্যা মামলার আসামিও সে।

বরগুনা জেলা খাদ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শরীফ মোল্লা জানান, বেতাগী উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম সিকদার জুয়ার আসর থেকে আটকের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাবেন তিনি। বিভাগীয় কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।