সিরাজগঞ্জে কাজিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সহীদ সরোয়ার হোসেনকে প্রতিপক্ষের লোকজন কুপিয়ে জখম করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার বিকেলে প্রতিপক্ষের লোকজনের হাতে মারধরের শিকার গুরুতর আহত সহীদকে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় পাঠাতে বলেন চিকিৎসকরা। পরে সেদিন মধ্যরাতে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের এ নেতাকে।

কাজিপুর উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জিয়া আহম্মেদ বলেন, ‘ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তির পর তার উন্নত চিকিৎসা চলছে।’

কাজিপুরে সরকার দলীয় দুই গ্রুপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে শনিবার বিকেলে গান্ধাইল-পাটাগ্রাম সড়কে এ হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। এদিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহম্মেদ ও তার চাচাত ভাই কালামসহ জ্ঞাত-অজ্ঞাত মিলে ১০ জনকে আসামি করে ভিকটিমের বড় বোন হামিদা বেগম শনিবার সন্ধ্যায় কাজিপুর থানায় মামলা করেন।

লিখিত এজাহারে হামলার নেপথ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করা হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সহীদ সরোয়ার সমকালকে বলেন, ‘কাজিপুরে গান্ধাইল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমি প্রার্থী হলেও দল থেকে গোলাম হোসেনকে মনোনায়ন দেওয়া হয়। আমি পরবর্তীতে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিই। ওই প্রার্থিতার ঘটনায় কাজিপুর ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহম্মেদসহ তার সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হন। রাজুর নির্দেশে তার চাচাত ভাই কালামসহ বেশ কয়েকজন আমাকে কুপিয়ে আহত করে। বাম পা ভেঙে দেয়।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজীর দাবি, ‘সংঘর্ষের ঘটনা কোন্দল ও দ্বন্দ্বের জেরে নয়। মূলত গান্ধাইল ইউনিয়নে ধর্ম সভার ব্যানারে নাম লেখা নিয়ে এটি স্থানীয়দের সঙ্গে সামাজিক বিরোধ।

কাজিপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহম্মেদ বলেন, ‘আমি ঢাকা এসেছি। আমাকে জড়ানোর বিষয়টি উদ্দেশ্যমূলক বা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছাড়া আর কিছু না। ধর্ম সভার ব্যানারে নাম দেওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সহীদ ভাই লাঞ্ছিত হন বলে শুনেছি।

কাজিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চানন্দ সরকার বলেন, ‘কাজিপুরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সহীদ সরোয়ার হোসেনকে মারধর করা হয়েছে বলে এজাহারে তার বোন হামিদা খাতুন উল্লেখ করেছেন। কাজিপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহম্মেদ ও তার চাচাত ভাই কালামসহ জ্ঞাত-অজ্ঞাত মিলে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় রোববার সকাল পর্যন্ত কেউ ধরা পড়েনি।’