ময়মনসিংহ জেলা মোটর মালিক সমিতি ও দ্য ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির ডাকা পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। রোববার সকাল ১১টার দিকে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণার পর বিভাগের চার জেলায় সকাল ১১টা থেকেই যান চলাচল শুরু হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মো. মমতাজ উদ্দিন মন্তা। লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়- ‘যোগাযোগ সচিবের অনুরোধ ও আশ্বাসের প্রেক্ষিতে এবং বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে ২৬ জানুয়ারি আলোচনা আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কের পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা করা হলো। ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা স্বাপেক্ষে পরিবর্তী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। যাত্রী সাধারণের সাময়িক অসুবিধার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করা হচ্ছে।’ উত্তরাঞ্চলীয় মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও দ্য ময়মনসিংত চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মোটর মালিক সমিতির মহাসচিব মাহবুবুর রহমান, দি।ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্সের সহ সভাপতি শংকর সাহা, জেলা মোটর মালিক সমিতির কোচ বিভাগের সম্পাদক সোমনাথ সাহা প্রমুখ।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মো. মমতাজ উদ্দিন মন্তা লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছিলেন- ‘ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট সময়ে গেলেও, গাজীপুর থেকে মহাখালী যেতে সময় লাগছে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টার মতো। এক্সপ্রেস ওয়ের কাজও যেমন ঢিমে তালে এগোচ্ছে, তেমনি গাড়ি চলাচলের রাস্তাও বিভিন্ন খানা-খন্দে ভরা। তিনি আরও জানিয়েছিলেন- ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের প্রতি মিনিটে সাতটি যাত্রিবাহী গাড়ি বিভিন্ন রোড থেকে গাজীপুর হয়ে ঢাকা অভিমুখে চলাচল করছে। হিসেব অনুযায়ী ঘণ্টায় যাতায়াত করছে ৪২০টি গাড়ি। ২৪ ঘণ্টায় চলাচল করছে দশ হাজার ৮০টি গাড়ি। বিভিন্ন যানজট রাস্তা খারাপের কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে তেল লাগে ২০ লিটার বেশি। হিসেব অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজার ৮০ গাড়িতে ২ লাখ এক হাজার ৬০০ লিটার তেল লাগে। যার অর্থমূল্য এক কোটি ৬১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। প্রতিদিন মালিকদের তেল বাবদ নষ্ট হচ্ছে ওই টাকা।’

১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেও সড়কের বেহাল অবস্থার উন্নতি না হওয়া রোববার থেকে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলা থেকে ঢাকায় সড়ক পথে যোগাযোগ বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয় শনিবার রাতে। রোববার সকাল থেকে ঢাকামুখী যানবাহন না চালায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় মানুষকে।