নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থী হারবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। রোববার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে আদর্শ স্কুল কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, নৌকার প্রার্থী যদি হারে তাহলে প্রার্থী হারবে নাকি নৌকা হারবে?- এমন প্রশ্নে জবাবে শামীম ওসমান বলেন, ‘নৌকার প্রার্থী হারবে না। যদি বলে কোনো কথা নেই।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে শামীম ওসমান বলেন, ‘নৌকা জিতলে এর সম্পূর্ণ অবদান জনগণের। আমার একার কোনো অবদান নেই। আমি একটা ভোট দিয়েছি একজন হিসেবে, আমার অবদান এতটুকু।’

তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ নিয়ে যখন বারবার কথা ওঠে যে, এখানে বিভিন্ন নেতিবাচক ঘটনা ঘটে, তখন বুকে রক্তক্ষরণ হয়। কিন্তু আল্লাহর রহমতে নারায়ণগঞ্জে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। আপনারা দেখেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, মেয়র নির্বচন কোনোটাতেই এখানে আল্লাহর রহমতে কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।’

শামীম ওসমান আরও বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ শান্তির শহর। একটি সুন্দর শহর। এখানে শহরের দুই পাশে যেমন নদীর স্রোত আছে, মানুষের মধ্যেও ভালোবাসার স্রোত আছে। আমি শুধু একটা কথা বলতে চাই, জয় পরাজয় আছে। নির্বাচনে একজন জিতবেন, বাকিরা হারবেন। কিন্তু দেশটা আমাদের সবার। সবাই মিলে দেশটা গড়তে হবে।’

তিনি বলেন, আমি নৌকায় ভোট দিয়েছি। আমি চাই নৌকা জিতুক এবং নৌকাই জিতবে। আমার মনে রক্তক্ষরণ, কষ্ট থাকতেই পারে। কিন্তু আমি তো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মী। আই এম সোলজার অব শেখ হাসিনা। আমি সারাজীবন প্রতীকের পক্ষেই কাজ করেছি এবং করবো। এখানে প্রার্থী কে সেটা বড় বিষয় না।

শামীম ওসমান বলেন, অনেকেই ধারণা করেছিলেন নির্বাচনে অনেক কিছু হবে। বারবার নারায়ণগঞ্জ নিয়ে অনেক কথা হয়। কিন্তু জাতীয় সংসদ, ইউনিয়ন পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোনো ধাক্কাধাক্কি হয়নি, কারো মাথাও ফাটেনি। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের ও ঢাকার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সুষ্ঠু একটি ভোটের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে একমাত্র সাংবাদিকদের কারণে। নারায়ণগঞ্জ একটি শান্তির শহর। জয় পরাজয় আছে কিন্তু মনে রাখতে হবে দেশটা সবার। দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাই সকলকে বলবো সবাই এক হোন।

তিনি বলেন, বলেছিলাম ১৬ তারিখ খেলা হবে এবং সে খেলাতে আমরা জিতবো। নৌকা কখনো হারে না, হারবেও না।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ২৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রের এক হাজার ৩৩৩ ভোটকক্ষে পাঁচ লাখ ১৭ হাজার ৩৬১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের মধ্যে চার জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারও রয়েছেন।

২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জন ও সংরক্ষিত নয়টি ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর পদে রয়েছেন ৩৪ জন প্রার্থী।

নির্বাচনের প্রধান আকর্ষণ মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে। নির্বাচনে মেয়র পদে সাত জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক নেতা ও আইনজীবী তৈমূর আলম খন্দকার (হাতি), খেলাফত মজলিসের এ বি এম সিরাজুল মামুন (দেয়ালঘড়ি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মো. মাছুম বিল্লাহ (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. জসীম উদ্দিন (বটগাছ), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মো. রাশেদ ফেরদৌস (হাতঘড়ি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল ইসলাম (ঘোড়া)।