যশোরের অভয়নগরের সুন্দলী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য উত্তম সরকারকে কথিত নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যরা হত্যা করেছে বলে দাবি করছে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করার পর রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ এই দাবি করে ডিবি।

গত ১০ জানুয়ারি অভয়নগরের হরিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নব নির্বাচিত ইউপি সদস্য উত্তম সরকারের নিকট চাঁদার টাকা না পেয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে। 

এ ঘটনায় পরদিন অভয়নগর থানায় মামলা হলে পুলিশ সুপারের নির্দেশে তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

যশোরের ডিবির অফিসার ইনচার্জ রুপন কুমার সরকার সংবাদ সম্মেলনে জানান, ডিবি পুলিশ পরিদর্শক শেখ শাহিনুর রহমাননের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জানুয়ারি ভোর পর্যন্ত খুলনার ডুমুরিয়া থানার বিভিন্ন এলাকা, যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিবি। 

এই অভিযানে ডিবি ইকরামুল গোলদার, প্রজিৎ বিশ্বাস, প্রল্লব বিশ্বাস, প্রশান্ত মন্ডল ও বিজন কুমার মন্ডলকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে বিজন ও প্রশান্ত সরকারের আহ্বানে ইতোপূর্বে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। 

রুপন কুমার সরকার জানান, তাদের কাছ থেকে একটি ওয়ান শুটারগান, একটি এয়ারগান, তিন রাউন্ড গুলি, দুটি গুলির খোসা, ছয় রাউন্ড ১২ বোর কার্তুজ, একটি লোহার রড, একটি ককটেল, ১০ গ্রাম বোমা তৈরির পাউডার (গান পাউডার), ৫০ গ্রাম বোমা তৈরির তারকাটা, উত্তম মেম্বার হত্যার মিশনে আসামিদের ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন, দুটি মোটরসাইকেল। 

যশোরের ডিবির অফিসার ইনচার্জ রুপন কুমার সরকার সমকালকে বলেন, ‘আসামিরা সংঘবদ্ধ কথিত নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য। তারা দলীয় ছদ্মনাম ব্যবহার করে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলায় অবৈধ অস্ত্র-গুলি, বিস্ফোরক দ্রব্য ইত্যাদি ব্যবহার করে হত্যা, চাঁদাবাজি করে চলেছে। ইতোপূর্বে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় তারা সংঘবদ্ধ হয়ে নতুন সদস্য সংগ্রহ করে দল গঠন করে যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর, কেশবপুরসহ আশপাশের জেলায় মাছের ঘের দখল, চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে রুপন কুমার সরকার বলেন, ‘হত্যার পরে জড়িতরা বিভিন্ন জনের কাছে চাঁদা চাওয়ার সময় উত্তম সরকারকে খুন করার রেফারেন্স টেনে মোবাইল ফোনে ভয়ভীতি দেখায়।’

অবৈধ অস্ত্র গুলি উদ্ধার বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শামীম হোসেন বাদী হয়ে অভয়নগর ও মণিরামপুর থানায় পৃথক দুটি মামলা করেছেন। এর আগেও আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি মামলা রয়েছে।