চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে সৃষ্ট দূরত্ব ও বিভেদ কমাতে নির্দেশ দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। এ ছাড়া মহানগর কমিটির নেতাদের নিয়ে ১৪টি সাংগঠনিক থানার জন্য ১৪টি টিম গঠন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব কমিটি থানা, ইউনিট ও ওয়ার্ডগুলোর সাংগঠনিক বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে জমা দেবে।

রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। ইউনিট পর্যায়ে দল পুনর্গঠন নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগে চলমান মতবিরোধ নিষ্পত্তির জন্য এ বৈঠক ডাকা হয়েছিল।

বৈঠকে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের মতবিরোধ নিরসনে একটি রিভিউ কমিটি গঠন করা হয়। চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের এ কমিটির সদস্যরা হচ্ছেন- নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, সহসভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, জহিরুল আলম দোভাষ এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এই কমিটি মহানগরে দলের ইউনিট কমিটি গঠন এবং সদস্য সংগ্রহ অভিযানে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি কিংবা দুর্বলতা থাকলে সেগুলো খতিয়ে দেখে দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠাবে।

আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের সভাপতিত্বে এবং চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের সঞ্চালনায় বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খানম।

চট্টগ্রামের নেতাদের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, সহসভাপতি খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, বদিউল আলম, সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফ প্রমুখ।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মহানগরের আওতাধীন ইউনিট কমিটি গঠনে দলীয় সিদ্ধান্ত মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এসব অভিযোগের জবাব দেন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা এ বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ে রিভিউ কমিটি গঠনের পাশাপাশি মহানগরীর যেসব ইউনিট কমিটি এখনও গঠন করা যায়নি, সেগুলো দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের বিভক্ত নেতাদের মিলেমিশে দলকে শক্তিশালী করার নির্দেশনাও দেন তারা।

বৈঠক শেষে মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরে শতাধিক ইউনিট সম্মেলন হয়েছে। সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে মহানগরের নেতাদের সমন্বয়ে ছয়জন করে নিয়ে ১৪টি সাংগঠনিক টিম করা হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, তার নেতৃত্বে গঠিত রিভিউ কমিটি মহানগর আওয়ামী লীগের আওতাধীন ইউনিট কমিটি গঠনে অসংগতি কিংবা ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে কিনা, সেগুলো খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলবে। এ বিষয়ে প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কেন্দ্র থেকে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।

তিনি জানান, এ ছাড়া নগরীর ১৫টি সাংগঠনিক থানায় সম্মেলন ও দল পুনর্গঠন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে থানাগুলোতে বর্তমানে দলের কী অবস্থা- তা নিয়েও ১৫ দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দিতে বলা হয়েছে তাদের।