রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন আরকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) প্রধান আতা উল্লাহ জুনুনীর ভাই শাহ আলীকে (৫৫) আটক করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্যরা। 

রোববার ভোরে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নৌকার মাঠ সংলগ্ন এলাকা থেকে অস্ত্র ও মাদকসহ তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দেশীয় তৈরি একটি বন্দুক, একটি বড় আকারের ছোরা ও এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে সোমবার সকালে পুলিশের মাধ্যমে তাকে কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হয়। আটকের পর তার নামে তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। 

শাহ আলীকে আটকের পর এপিবিএন জানায়, উখিয়ার কুতুপালং ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নৌকার মাঠ এলাকায় বড় ধরনের অপরাধ সংঘটনের জন্য কতিপয় সশস্ত্র দুর্বৃত্ত অবস্থান করছে এমন খবরে এপিবিএনের একটি দল ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি করে অপরাধীদের অবস্থান নিশ্চিত করে। পরে অভিযান চালিয়ে চোখ বাধা অবস্থায় অপহৃত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। এসময় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় এপিবিএন সদস্যরা ধাওয়া করে শাহ আলীকে আটক করে। পরে তার হেফাজতে থাকা অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়।

আটকের পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত ১৪ এপিবিএন উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ রুহুল আজম বাদী হয়ে শাহ আলীর বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছেন। এর মধ্যে এক মামলার এজাহারে তার কাছে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের কোতোয়ালি থানার দেওয়ান বাজারের জয়নব কলোনির ঠিকানা ব্যবহার করে তিনি ওই পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছেন। 

এপিবিএন সূত্র জানিয়েছেন, শাহ আলীর সঙ্গে মিয়ানমারের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আরসা’র প্রধান আতা উল্লাহর জুনুনীর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। আরসা প্রধান মিয়ানমারের রাখাইনে পাহাড়ি এলাকার ক্যাম্পে অবস্থান করছেন বলে শাহ আলী জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে উখিয়ার ক্যাম্পে অবস্থান করে শাহ আলী নানা অপরাধে জড়িত।

উখিয়া থানার ওসি আহমেদ সঞ্জুর মোরশেদ বলেন, দায়েরকৃত মামলায় শাহ আলীসহ দু’জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন, উখিয়ার কুতুপালং ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-১০ ব্লকের বাসিন্দা মৃত গোলাম মোহাম্মদের ছেলে শাহ আলী এবং একই ক্যাম্পের এ-১১ ব্লকের বাসিন্দা মৃত আবুল কালামের ছেলে মোহাম্মদ জোবাইর (২৫)।

আহমেদ সঞ্জুর মোরশেদ আরও বলেন, শাহ আলীকে আটকের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদ সালেহ (২৮) নামে এক যুবক বাদী হয়ে অপহরণ ঘটনায় একটি এবং এপিবিএন এর এক সদস্য বাদী হয়ে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেছেন।