দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি স্বল্পতায় ঘাটের দুপাড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে ফেরির নাগাল পেতে ২৫ থেকে ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন সোমবার রাতে হঠাৎ করে নৌরুটে চলাচলকারী দুইটি ফেরি বিকল হয়ে পড়ে। এতে দৌলতদিয়া ঘাট অভিমুখে পণ্যবাহী ট্রাক ও কার্ভাডভ্যানের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে ফেরি দুটি পুনরায় চলাচল শুরু হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম সমকালকে জানান, গত রাতে হঠাৎ করেই দুটি রো রো (বড়) ফেরির যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তা পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতিতে মেরামত জন্য পাঠানো হয়। আর এতে করে যানবাহন পারাপারে ধীরগতির কারণেই দৌলতদিয়া প্রান্তে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। মেরামত শেষে সকাল থেকেই ফেরি দুটি যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৭টি ফেরি যানবাহন পারাপার করছে।

মঙ্গলবার দুপুরে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট হতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ ফিডমিলস পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শত শত পণ্যবোঝাই ট্রাকের দীর্ঘ সারি। এছাড়াও আরেকটি লাইনে ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহসড়কের দৌলতদিয়া মডেল হাই স্কুল পর্যন্ত শতাধিক যাত্রীবাহী বাস ও কাঁচামালবাহী ট্রাক সিরিয়ালে আটকে রয়েছে। তবে যাত্রীবাহী বাস ও কাঁচামালবাহী ট্রাকগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে।  

দৌলতদিয়া ঘাটের যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোয়ালন্দ মোড়ের রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের কল্যাণপুর পর্যন্ত সিরিয়ালে অপেক্ষা করছে অসংখ্য পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান।

এদিকে দুর্ভোগ কমাতে যাত্রীবাহি বাস ও পচনশীল পন্যবাহী ট্রাক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করায় সাধারণ পন্যবাহী ট্রাক চালকরা পড়েছেন মহা বিপাকে। এসব ট্রাককে ফেরির নাগাল পেতে অন্তত ২৫-৩০ ঘণ্টা সিরিয়ালে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

দৌলতদিয়া ঘাটে সিরিয়ালে আটকে থাকা ট্রাকচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সোমবার রাত ২টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে সিরিয়ালে আটকা পড়েছি। কখন ফেরির নাগাল পাব তা জানি না।’

ট্রাকচালক সুজন শেখ বলেন, ‘ঘাটে প্রতিনিয়তই কোনো না কোনো দুর্ভোগে পড়তে হয়। তবে গত কয়েকদিন ঘাটে কোনো দুর্ভোগ ছাড়াই পারাপার হচ্ছিলাম। হঠাৎ করেই রাতে দুটি ফেরি নষ্ট হয়ে পড়ায় যানবাহন পারাপারে ধীরগতি তৈরি হয়। সে কারণেই ঘাটে যানবাহনের সারিও বাড়তে থাকে। সকাল থেকে পুনরায় ফেরি দুটি চলাচল শুরু হলেও যানবাহনের চাপ থাকায় দীর্ঘ সিরিয়ালের সৃষ্টি হয়েছে।’