নোয়াখালীর চাটখিলে সাংবাদিক পরিচয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত এক ব্রিটিশ নাগরিকের কাছে ভবন নির্মাণের সময় মোটা অংকের চাঁদাদাবির মামলায় এক ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ওই ব্যক্তির নাম সাইফুল ইসলাম রিয়াদ (৩৫)। তিনি চাটখিল পৌর শহরের সুন্দরপুর মহল্লার বড় বাড়ির শাহ আলমের ছেলে। তিনি ইউটিউবে চ্যানেল খুলে সেখানে নিজের করা ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে। 

মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোটের চাটখিল আদালতের বিচারক মো. তৌহিদুল ইসলাম এ আদেশ দেন। আদালতের সিনিয়র আইনজীবী খাজা মাইন উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, রিয়াদ একেক সময় নিজেকে একেক পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মানুষকে হয়রানি, চাঁদাবাজি ও প্রতারণা করে আসছেন। গত জুন মাসে চাটখিল পৌরসভার ভীমপুরের বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ নাগরিক ও ব্যবসায়ী শাহ সুফিয়ান তার বাড়িতে ভবন নির্মাণ করছিলেন। রিয়াদ তার এক সহযোগীকে নিয়ে গত বছরের ২ জুন সকালে ওই নির্মাণাধীন বাড়ির ছবি তুলেন ও ভিডিও ফুটেজ ধারণ করেন। পরে সুফিয়ানকে ওই দিন সন্ধ্যায় চাটখিল পৌরসভার আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে রাত ৮টায় রিয়াদের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। দেখা না করলে সুফিয়ানের বিরাট ক্ষতি হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। 

সুফিয়ান তার এক বন্ধুকে নিয়ে ওই স্থানে গেলে রিয়াদ তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে রিয়াদ হুমকি দেন, সুফিয়ান অন্যের জায়গায় ভবন নির্মাণ করছেন এই বলে মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন চ্যানেলে প্রকাশ করবেন। এতে সুফিয়ান সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হবে। রিয়াদের কাছ থেকে সুফিয়ান চলে যাওয়ার পরও রিয়াদ বার-বার তাকে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি করে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি দেয়। পরে সুফিয়ান বাদী হয়ে গত বছরের ২৯ জুন নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোটের চাটখিল কোর্টের বিচারক  মুহিব উল্যাহর আদালতে মামলা করেন। 

শুনানি শেষে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআই নোয়াখালী কার্যালয়কে তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। পিবিআই কার্যালয় দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষী প্রমাণ শেষে রিয়াদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। মঙ্গলবার দুপুরে ওই মামলায় রিয়াদ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠান।