সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ীতে মোল্লা গোষ্ঠী এবং ফকির গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত ও অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার সকালে সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ লাঠি, ফালা, শাবল, দা, কুড়াল, বল্লম ও ইটপাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র ব্যবহার করে। পরিবারের নারী সদস্যরাও সংঘর্ষে অংশগ্রহণ করে। এসময় এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে ইউসুফ মোল্লার ছেলে শরিফুল ইয়ারফিন (৩৫) নিহত হয়েছেন।

শাহজাদপুর থানার এএসপি সার্কেল হাসিবুল আলম সমকালকে বলেন, পূর্ব শত্রুতা জের ধরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত।পুলিশ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।’ 

তিনি জানান, সংঘর্ষে আহতদের শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে,পাবনার বেড়া ও ফরিদপুর ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সংঘর্ষ চলাকালে বাঘাবাড়ী-চাটমোহর আঞ্চলিক সড়কের বাঘাবাড়ী এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। 

সংঘর্ষের চলাকালে ২৫টি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে। সংঘর্ষের পর মোল্লা গোষ্ঠীর কয়েকজন বাড়িতে থেকে গেলেও ফকির গোষ্ঠীর সমর্থকরা তাদের আসবাবপত্র, গরু -বাছুর নিয়ে পাশের গ্রাম চড়াচিথুলিয়া, সেলন্দা, বহলবাড়ী ও রাউতারায় আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। 

শাহজাদপুর থানার ওসি (অপারেশন) আব্দুল মজিদ জানান, শরিফুল ইয়ারফিনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠনো হয়েছে। পুলিশ উভয় পক্ষের ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।