চট্টগ্রামে ছিনতাইকারী হিসেবে অভিযুক্ত জোবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে জমা দেওয়া হত্যাচেষ্টা মামলার চার্জশিটে খুনের তথ্য লুকিয়েছিল পুলিশ। চার্জশিটে এ তথ্য না থাকলেও কারাগার থেকে আদালতে পাঠানো আসামি পরোয়ানায় দুই খুনের বিষয়টি নজরে আসে আদালতের। এ ঘটনায় পুলিশের তদন্ত ও চার্জশিটের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
পরে গত ১১ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা এস আই আলমগীর হোসেন সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। চট্টগ্রাম আদালত তাকে সতর্ক করার পাশাপাশি ক্ষমার আবেদন মঞ্জুর করে দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, দ্রুত জামিন ও বিচারে আসামিকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিতে তদন্ত কর্মকর্তা এটি করে থাকতে পারেন বলে মনে করে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে ভুলে দুটি খুনের মামলার তথ্য চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে দাবি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
চট্টগ্রাম মহানগর অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আবিদ হোসেন বলেন, গত বছরের ২১ নভেম্বর আসামি জামিন নিতে এলে শুনানির এক পর্যায়ে আদালতের নজরে আসে যে, চার্জশিটে তার অতীত রেকর্ডের কলাম শূন্য রয়েছে; কিন্তু কারাগার থেকে আদালতে পাঠানো পরোয়ানায় তার বিরুদ্ধে দুটি খুনের মামলার তথ্য রয়েছে। আসামিও আদালতের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য স্বীকার করেন।
এমন প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মো. রবিউল আলম তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ প্রসঙ্গে পুলিশের এস আই আলমগীর হোসেন বলেন, ভুল করে চার্জশিটে দুটি খুনের তথ্য দেওয়া হয়নি। এটি ইচ্ছাকৃত নয়। ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে আদালত সতর্ক করে ক্ষমার আবেদন মঞ্জুর করেছেন। দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিট দেওয়ার সময় নিরপেক্ষ না থাকলে চতুরতার সঙ্গে চার্জশিটে অযাচিত তথ্য যোগ করতে পারেন, আবার অনেক তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার মাধ্যমে আসামিকে জামিন পেতে ও বিচারে সুবিধা পাইয়ে দিতে কারসাজিও করতে পারেন। কারণ কোনো আসামি অতীতে একই ধরনের অপরাধ বারবার করেছেন কিনা, পেশাদার অপরাধী কিনা, এসব বিশ্নেষণ করেই জামিন কিংবা মামলা বিচারের ক্ষেত্রে আসামি সম্পর্কে আদালত প্রাথমিক ধারণা পেয়ে থাকেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২ অক্টোবর নগরের আকবর শাহ থানায় নির্মাণ শ্রমিক মো. আরিফকে হত্যাচেষ্টা মামলায় জোবায়ের হোসেনসহ চারজনকে অভিযুক্ত করেছে পুলিশ।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় একটি কাভার্ডভ্যান ছিনতাই হয়। এর দুই দিন পর নগরের হালিশহর বড়পোল এলাকার একটি ডোবা থেকে কাভার্ড ভ্যানচালক রিয়াদ হোসেনের এবং মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থেকে চালকের সহকারী মো. আলীর লাশ উদ্ধার হয়। এ দুটি হত্যা মামলায়ও আসামি ছিনতাইকারী জোবায়ের হোসেন। এ তথ্য চার্জশিটে গোপন করা হয়েছিল।