কক্সবাজারের উখিয়ার ১১টি ক্যাম্প থেকে অস্ত্র ও মাদকসহ এক বছরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৭৮ রোহিঙ্গাকে। তাদের কাছ থেকে এ সময় জব্দ করা হয়েছে দেশি-বিদেশি ১৪০টি অস্ত্রসহ সাড়ে আট লাখ পিস ইয়াবা। অভিযান পরিচালনা করা ৮-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এসব তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একের পর এক হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মিকে (আরসা) দায়ী করে আসছেন ভুক্তভোগীরা। গত রোববার উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প এলাকা থেকে মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠনটির প্রধানের ভাই শাহ আলীকে গ্রেপ্তারও করেছে এপিবিএন।

তবে আরসার সক্রিয়তার বিষয়টি অস্বীকার করে এপিবিএন অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) মোহাম্মদ সিহাব কায়সার খান সমকালকে বলেন, ‘বাংলাদেশে আরসার কোনো অস্তিত্ব নেই। ক্যাম্পে আরসার কার্যক্রমের কোনো প্রশ্নই আসে না। কিছু অপরাধী ক্যাম্পে ত্রাস সৃষ্টির জন্য আরসার নাম ব্যবহার করছে। এর বাইরে কিছু নয়। ক্যাম্প পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে। কোনো অপরাধী পার পাবে না।’

পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, গত বছর উখিয়ার ১১টি ক্যাম্পে প্রায় ২০০ অভিযানে ১৪০টি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া পাচারের সময় ৯০৮ কেজির বেশি স্বর্ণালঙ্কার, মাদক লেনদেনের ৫৮ লাখ টাকা, তিন লাখ ৩৫ হাজার মিয়ানমার কিয়াতসহ ৫০ হাজার টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়েছে। এসব অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৭৮ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বেশ কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ক্যাম্পে যে কোনো দুর্যোগ মুহূর্তে সবার আগে সাড়া দেয় ৮-এপিবিএন। আগুনের সময় ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বাহিনীটির সর্বোচ্চ চেষ্টার কারণে প্রাণহানির ঘটনা কমেছে।

এপিবিএনের মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন জানান, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কপবাজারে আশ্রয় নেওয়ার পর ঢাকা থেকে ৮-এপিবিএনকে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে তারা ১১টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন। এসব ক্যাম্পে ৬৪টি ব্লক ও ৭৭৩টি সাব-ব্লক রয়েছে। ৭৫ হাজার ৯৩০টি ঘরে বসবাস করছেন তিন লাখ ৬২ হাজার ২১৮ মানুষ। তাদের নিরাপত্তায় ক্যাম্পে প্রতি রাতে সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকসহ পাঁচটি পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা কাজ করছেন।