স্বরূপকাঠিতে অভাবের কারণে দুধের শিশু বিক্রির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর গা-ঢাকা দিয়েছে প্রতারক চক্র। বৃহস্পতিবার সমকালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ হয়। এরপরই পুলিশ তৎপর হয়ে শিশুর বাবা-মাকে থানায় নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। অন্যদিকে, প্রতারকদের রক্ষায় তৎপর হয়ে উঠেছে তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতারা।

এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য জহর বেপারী বলেন, অভিযুক্ত বিজন হালদার ছোটবেলা থেকেই কিশোর গ্যাং নেতা বনে যায়। সে মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ওষুধ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত রণজিৎ মণ্ডল। সাংবাদিকরা এলাকায় আসার পর থেকেই বিজন ও রণজিৎ দু'জনই গা-ঢাকা দিয়েছে।

অন্যদিকে, শিশুটি উদ্ধারে তৎপর রয়েছে পুলিশ। এ কাজে জড়িত নারী প্রতারকের মাধ্যমে শিশুটিকে নেওয়া দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগ করে চলছে পুলিশ।

অভিযুক্ত বিজন হালদার ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, আমি গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে বেকার। সমাজের কাজ করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়ি। আমি রাজনীতি করি। সে কারণে আমার প্রতিপক্ষ রয়েছে। তারা আমার ক্যারিয়ার ধ্বংস করার জন্য মিথ্যা-বানোয়াট কথা বলার অপচেষ্টা করে।

এ বিষয়ে সমদেকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বেপারী বলেন, এ চক্রটি নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত। পুলিশকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়েছি। প্রয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ওসি আবীর মোহাম্মদ হোসেন বলেন, শিশুর বাবা-মাকে এনে থানায় তথ্য নেওয়া হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন তরফ থেকে এবং আতা গ্রামের প্রতারক ওই নারীর কাছ থেকেও তথ্য নিয়ে শিশুটিকে নেওয়া দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। উভয় দম্পতিকে সামনে আনা গেলে সব তথ্য উদ্ঘাটন করা যাবে।

স্বরূপকাঠির দুর্গাকাঠি এলাকার ১৮ দিন বয়সের একটি শিশুকে বিক্রি করে এক লাখ ৬৫ হাজার টাকার মধ্যে এক লাখ ৫৫ হাজার টাকাই প্রতারক চক্র নিয়ে গেছে।