দেশজুড়ে করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যেই চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো ওমিক্রনের সাম্প্রতিকতম উপধরন 'বিএ২' (স্টেলথ ওমিক্রন) শনাক্ত হয়েছে। স্থানীয় একদল গবেষক জানান, দু'জন রোগীর শরীরে ধরনটি মিলেছে। চলতি মাসের শুরু থেকে ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রের টেপাস ও হিউস্টন, চীন এবং ওমানে এ ধরনটি পাওয়া গেছে।

'বিএ২' সম্পর্কে গবেষকরা জানান, নতুন এই উপধরনটি খুব বেশি বিপজ্জনক নয়। তবে এটির স্পাইক প্রোটিনে বেশকিছু নতুন পরিবর্তন আছে। ফলে এটি শনাক্তকরণ দুরূহ বলে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের (সিডিসি) গবেষকরা জানিয়েছেন। এ উপধরনটিও অতি সংক্রামক। এই জিনোম সিকুয়েন্সিংয়ের নেতৃত্বে ছিলেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের চিকিৎসক ডা. এইচএম হামিদুল্লাহ মেহেদী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ড. আদনান মান্নান।

ড. আদনান মান্নান সমকালকে বলেন, 'ওমিক্রনের খুঁটিনাটিসহ যাবতীয় বিষয় খুঁজে বের করতে আরও বেশি জিনোম সিকুয়েন্স করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যত বেশি জিনোম সিকুয়েন্স করা যাবে, তত বেশি নতুন ধরনটি সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে। এটা থেকে আগামীতে এই ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীদের সঠিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া সহজ হবে।'

এদিকে চট্টগ্রামের দুই হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের ৭৫ ভাগই নতুন ধরন 'ওমিক্রনে' আক্রান্ত হওয়ার তথ্যপ্রমাণ পেয়েছেন এই গবেষকরা। ওমিক্রন ধরনে আক্রান্ত রোগীদের ৯০ ভাগের মধ্যে গলা ব্যথা ও গলার স্বর বিকৃত হয়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়েছেন তারা। ৮৫ ভাগের মধ্যে শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা ও মাথাব্যথা এবং ৮০ ভাগের জ্বর পরিলক্ষিত হয়েছে।

চট্টগ্রামের করোনা ডেডিকেটেড জেনারেল হাসপাতাল ও বিশেষায়িত মা ও শিশু হাসপাতালের করোনা আক্রান্ত রোগীদের ওপর গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। এ দুই হাসপাতালে গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর এবং চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহের কভিড পজিটিভ রোগীদের জিনোম সিকুয়েন্সিং করে গবেষকরা দেখতে পান, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বরের পর থেকে দুই হাসপাতালে আসা কভিড পজিটিভ রোগীদের ৭৫ ভাগই 'ওমিক্রন' ধরনে আক্রান্ত।

চট্টগ্রামে সার্স কভ-২ এর জিনোম সিকুয়েন্স নিয়ে করা এই গবেষণাটি জিনোম সিকুয়েন্সের আন্তর্জাতিক ডাটাবেজ জার্মানির 'গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটা'তে (জিআইএসএইডি) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকরা ৩০ জন রোগীর নমুনার জিনোম সিকুয়েন্স করে দেখতে পান, গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই দুই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হওয়া রোগীরা সবাই করোনার ডেলটা ধরনে আক্রান্ত ছিলেন। এর মধ্যে নবজাতক থেকে ৮০ বছর বয়স্ক রোগীও ছিল। কিন্তু ২৫ ডিসেম্বরের পর ভর্তি হওয়া রোগীদের ৭৫ ভাগই ওমিক্রন ধরনে আক্রান্ত।