শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অনশনরত শিক্ষার্থীদের নয়জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে আটজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া ৪৪ ঘণ্টা ধরে চলা এই অনশনে প্রায় সবাই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

শুক্রবার সকালে অনশনরত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদিন বলেন, আমরা কেউ ভালো নেই। আমাদের অনশনের প্রায় ৪৪ ঘণ্টা পার হতে চলেছে। এ সময়ে এক ফোটা পানিও গ্রহণ না করায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন নয়জন শিক্ষার্থী। তারা এখনও অনশন ভাঙতে রাজি হননি। অনশনস্থলে আমরা যারা আছি তাদের মধ্যে বর্তমানে ১৩ জনকে স্যালাইন দেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, যত কষ্টই হোক, যত ত্যাগ স্বীকারই হোক, ভিসির পদত্যাগের আগ পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাব। 

শাবিতে শিক্ষার্থীদের অনশন

এর আগে বুধবার দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অনশনে বসে ২৪ শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে কিলো রোডে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন তারা। ইতিমধ্যে অনশনের প্রায় ৪৪ ঘণ্টা পার হয়ে যাওয়ায় মোট ৯ জন শিক্ষার্থী গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের বাবা অসুস্থ হওয়ায় তিনি বাড়িতে চলে গেছেন। বাকি ৮ শিক্ষার্থী এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই শিক্ষার্থীদের কেউ এখন পর্যন্ত অনশন ভাঙ্গেননি।

এদিকে গত রাতে প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করেন। এ সময় তারা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে রাত তিনটার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা আগুন জ্বালিয়ে পুড়ে ফেলেন।

এরপর রাত দুইটার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে শিক্ষকদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে অনশনস্থলে যান। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার বলেন, ‘উনারা আমাদের বলেন আমরা সাবেক সাস্টিয়ান। তোমাদের এই অবস্থায় আমাদের কষ্ট হচ্ছে। আমরা তোমাদের স্বাস্থ্যের খবর নিতে এসেছি।

এ বিষয়ে সিন্ডিকেট সদস্য এবং সেন্টার অব এক্সিলেন্সের পরিচালক অধ্যাপক ড. মস্তাবুর রহমান সমকালকে বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়েই তো ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের আগে বাঁচাতে হবে। এখানে চিন্তা করার মতো কিছু নেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের জন্য। শিক্ষার্থীদের সুন্দরভাবে বাঁচিয়ে রেখে তারপর অন্য চিন্তা করতে হবে। 

অনশন ভাঙ্গানোর বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের চেষ্টা চলছে। আমি নিজেও একজন সাস্টিয়ান। এটা আমার অনুভূতির সঙ্গে একাত্মতা। পুলিশি আক্রমণের ন্যক্কারজনক এমন ঘটনা অতীতে তো ঘটেনি। আমি সেটাই চাই, যারা দায়িত্বশীল জায়গায় ছিল তাদের দায়িত্ব নিতে হবে।