জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সকল পরীক্ষা স্থগিত না রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা চালুর দাবিতে মানববন্ধন করেছে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রোববার দুপুরে শহরের আলফাত স্কয়ারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পরীক্ষা সচলের দাবি জানান।

মানববন্ধনে নিজের ১১ মাস বয়সি ছেলেকে কোলে নিয়ে এসেছিলেন এক শিক্ষার্থী দম্পতি। শৈত্যপ্রবাহ উপেক্ষা করে সীমান্তবর্তী উপজেলা তাহিরপুর সন্তান নিয়ে মানববন্ধনে যোগ দেন তারা। এই শিক্ষার্থীর দম্পতি হলেন মো. জুয়েল মিয়া ও  তার স্ত্রী তাছলিমা বেগম ।  তারা দুজনেই সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে বাংলা বিষয় নিয়ে মাস্টার্স করছেন। তাদের বাড়ি তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের রঙারচর গ্রামে।

ওই শিক্ষার্থী দম্পতি জানান, ২০১৯ সালে তারা কলেজে ভর্তি হন। করোনা মহামারি শুরুর পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় ২০২০ সালে তারা বিয়ে করেন। এরপরই দু’জনের কোল জুড়ে ফুটফুটে সন্তান জারিফ আসে। চলমান আন্দোলনে একাত্মতা জানাতেই মানববন্ধনে যোগ দেন তারা।

জুয়েল জানান, ২০১৯ সালে মাস্টার্সে ভর্তি হয়ে তিন বছর হতে চলল। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের জন্য তাদের কোনো ক্লাস পরীক্ষা হয়নি। যে কোর্স একবছরে শেষ হওয়ার কথা, সেখানে তিন বছর হতে চললো, তবুও তারা কাঙ্খিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না।

জুয়েল বলেন, কবে কোর্স শেষ করতে পারব, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এই পরীক্ষা না হওয়ার কারণে চাকরির প্রস্তুতি নিতে পারছি না। দেশে সবকিছু চালু রয়েছে, কেবল আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই বন্ধ।

তিনি আরও বলেন, আমাদের যে স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করে চাকরি করবো, সেটা স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। আমাদের জীবন হুমকির মুখে পড়ছে। পরীক্ষাগুলো যাতে দ্রুত নেওয়া হয়, সে দাবি জানাতে সন্তান নিয়ে এসেছি মানববন্ধনে।

জুয়েল মিয়ার স্ত্রী তাছলিমা বেগম বললেন, দিন যত যাচ্ছে চাকরির বয়স কমছে, সংসার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় পার করছি।

দু’ঘন্টা ব্যাপী চলা মানববন্ধে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী দ্বিপাল ভট্টাচার্য্য, নাসিম চৌধুরী, সাজিদুল ইসলাম, তুফাজ্জুল হক তালুকদার, মিটুন তালুকদার, সোহানুর রহমান সোহান, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

এদিকে, ছয় ফেব্রুয়ারির মধ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খুলে দিলে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে প্রকাশ্যে আত্মহত্যা করার হুমকি দিয়েছেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থী।

শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনিকে হুশিয়ারি দিয়ে এই কলেজের হিসাব বিজ্ঞান ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাহেদ মিয়া রোববার এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, রাজধানীতে বাণিজ্য মেলা চলছে, হাটবাজার খোলা। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংস করে দেওয়ার উদ্যোগ। তা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।