আলোচিত নাজিরহাট কলেজের অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী হত্যাকাণ্ডের যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মহিউদ্দিনকে দুই দশক পর গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত শনিবার রাতে নগরের পাঁচলাইশ থানার সুগন্ধা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মহিউদ্দিন ওরফে মহিন উদ্দিন হাটহাজারী থানার মন্দাকিনি গ্রামের এলাহী বক্সের ছেলে।

র‌্যাব-৭ এর হাটহাজারি ক্যাম্প কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পর দুবাইয়ে পালিয়ে যায় মহিউদ্দিন। গত ২৯ অক্টোবর তিনি দেশে আসেন। এরপর আত্মগোপনে চলে যান। রোববার রাতের ফ্লাইটে মহিউদ্দিনের দুবাই ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। সেজন্য শনিবার করোনা টেস্টের নমুনাও দিয়েছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে তাকে সুগন্ধা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

২০০১ সালের ১৬ নভেম্বর নগরের জামালখান রোডের বাসায় নাজিরহাট কলেজের অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরীকে গুলি করে হত্যা করে জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা। এ ঘটনায় ওইদিন তার স্ত্রী রেলওয়ের তৎকালীন অডিট কর্মকর্তা উমা মুহুরী বাদী হয়ে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরে এ মামলায় আসামি নাসির ওরফে গিট্টু নাসির, আজম, আলমগীর কবির ওরফে বাইট্টা আলমগীর এবং তসলিম উদ্দীন ওরফে মন্টুকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। এছাড়া আসামি মহিউদ্দিন ওরফে মহিনউদ্দিন, হাবিব খান, সাইফুল ওরফে ছোট সাইফুল এবং শাহাজাহানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর বিধি অনুযায়ী বিচারিক আদালত থেকে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামিরা আপিল করেন। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত গিট্টু নাসির ক্রসফায়ারে মারা যান। মারা যান যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ছোট সাইফুলও।

পরে হাইকোর্ট আপিলের শুনানি শেষে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। তবে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত শাজাহান খালাস পান। বাকিদের সাজাও বহাল রাখা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর আপিল বিভাগ তিন আসামির আপিলের শুনানি নিয়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেন।