পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ফেলাবুনিয়া লঞ্চঘাটটি পৃথকভাবে ইজারা দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ। দুই সংস্থার রশি টানাটানিতে বিপাকে পড়েছেন জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা নেওয়া ইজারাদার সিদ্দিকুর রহমান। তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে কয়েক দফা চিঠি দিয়েও ঘাট বুঝে পাননি। ফেরত পাননি সরকারি কোষাগারে জমা করা টাকাও। লঞ্চঘাটটি উপজেলার উপকূলীয় বড় বাইশদিয়া এলাকায় অবস্থিত।

সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পন্টুনবিহীন ফেলাবুনিয়া লঞ্চঘাটটি প্রথমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইজারা দেওয়া হয়। বন্দোবস্ত কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে সদর উপজেলার নন্দিপাড়া গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান ২০২১ সালের ২১ মার্চ ঘাটের ইজারা পান। তিনি ২৫ মার্চ এক বছরের জন্য সরকারি কোষাগারে ইজারার টাকা জমা দেন। অন্যদিকে ওই একই লঞ্চঘাটে পরে পন্টুন বসিয়ে নাসির উদ্দিন নামে একজনকে ইজারা দেয় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে নাসির উদ্দিন ওই ঘাটে ইজারার টাকা উত্তোলন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ইজারা নেওয়া সিদ্দিকুর রহমান পড়েছেন বিপাকে।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে আমি ওই ঘাট ইজারা পাই। কিন্তু সরেজমিন দেখি, বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ওই ঘাটে পন্টুন বসিয়ে ইজারা দিয়েছে। ১০ মাস চলে যাচ্ছে এখনও ঘাটের কোনো সুরাহা হয়নি। রাষ্ট্রের কাছ থেকে ঘাট ইজারা নিয়েও বুঝে পেলাম না, এখন টাকাও ফেরত পাচ্ছি না। এ কারণে আমি আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক ও নদীবন্দর কর্মকর্তা মহিউদ্দিন খান জানান, সরকারি বিধিমোতাবেক বিআইডব্লিউটিএ ঘাট ইজারা দিয়েছে। দেড় লাখ টাকা মূল্যে এ ঘাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে এ ঘাটটি কীভাবে ইজারা দিয়েছিল, সেটি তার দেখার বিষয় নয়।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান জানান, বিষয়টি তিনি অবগত। ওই ঘাটে পন্টুন না থাকায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে সেখানে ইজারা দেওয়া হয়। তাই বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ওই ঘাট ইজারা দেওয়ার আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেওয়া উচিত ছিল। এভাবে তারা ইজারা দিতে পারে না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য রাঙ্গাবালীর ইউএনওকে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।