চট্টগ্রামের আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবদুল হালিমের আদালত মিতু হত্যার ঘটনায় নগরের পাঁচলাইশ থানায় নিজের দায়ের করা মামলায় বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পিপি মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় নগরের পাঁচলাইশ থানায় দায়ের করা মামলায় বাবুল আক্তারের জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গ্রেপ্তারের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর ইন্সপেক্টর আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক। মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলায় বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। ২০২১ সালের ১১ মে বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। আগের মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দাখিলের পর ১২ মে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে নগরের পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারসহ আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দ্বিতীয় মামলায় পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল: মঙ্গলবার মিতু হত্যায় তার বাবা মোশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ। প্রতিবেদনে দুটি মামলা একইভুত করে একটি মামলা হিসেবে তদন্ত করার জন্য আদালতের নির্দেশনাও চেয়েছে পিবিআই। দুটি মামলায় এখন বাবুল আক্তারসহ একই আসামি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ইন্সপেক্টর আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক সমকালকে বলেন, আদালত দুটি মামলার তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। প্রথম মামলায়ও এখন বাবুল আক্তার আসামি। তাই দ্বিতীয় মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে দুটি মামলা একইভূত করে তদন্ত চলমান রাখার জন্য আদালতের নির্দেশনা চেয়েছি। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনার আলোকে তদন্ত করা হবে।
২০২১ সালের ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন মেয়ে হত্যায় জামাতা বাবুল আক্তারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাটি করেন। সেই মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার করেছিল পিবিআই। গত ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল হালিম মিতু হত্যার ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলায় তাকেই গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছিলেন। ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর বাবুলকে তার করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনটি করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ইন্সপেক্টর আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে জিইসি মোড়ে হত্যা করা হয় মিতুকে। মামলার অভিযোগে নিজের জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেন বাবুল। ঘটনার কয়েকদিন পরেই মামলার তদন্তে নতুন মোড় নেয়।