গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী ৫৫ নং ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগের সদ্য ঘোষিত কমিটিতে এক মাদক ব্যবসায়ীকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

তার নাম সীমা আক্তার (২৬)। মাদকসহ র‌্যাব ও পুলিশের হাতে বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়ে হাজতবাস করছেন তিনি। তার নামে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তার আপন ছোট ভাই ইয়াসিন মোল্লা একই ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। এ বিষয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গত ১৯ জানুয়ারি গাজীপুর মহানগরের ৫৫ নং ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। মাদকে জড়িত থাকা ব্যক্তিকে সভাপতি পদ দেওয়ার পর থেকে এলাকার রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা ও বিতর্ক। স্থানীয় ও মহানগরের নেতারা পরস্পরকে দোষারোপ করছেন। টঙ্গী পূর্ব থানা যুব মহিলা লীগের কমিটি দেওয়ার পরও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সীমা আক্তার সমকালকে বলেন, ‘আমি এক সময় টুকিটাকি মাদকের সাথে জড়িত ছিলাম। কিন্তু গত ৩-৪ বছর যাবত আমি বিন্দুমাত্র জড়িত নাই। আমি ভালো হতে চাই। এজন্য আমাকে একটি সুযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

সীমা কিভাবে কমিটিতে

চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সীমা কিভাবে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হল, এ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে নেতাদের মধ্যে। তাদের কেউ সীমার বিষয়ে দায় নিতে রাজি নন।

কেউ অভিযোগ করছেন, টঙ্গী ৫৫ নং ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সময় সীমা তথ্য গোপন করেছেন। কেউ বলেছেন, টঙ্গীর নেতারাই সীমার জন্য তদবির করেছিলেন।

গাজীপুর মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমা হোসেন বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের একজন মাদক কারবারির নাম থাকায় খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি রেজাউল ও দেলোয়ার ওর বিষয়ে তদবির করেছিল।’

৫৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সীমাকে কমিটিতে রাখার জন্য আমি সুপারিশ করেছিলাম। তবে যাচাই বাছাই করে দেওয়ার কথা বলেছিলাম।’ 

টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মনির আহম্মেদ বলেন, ৫৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অভিভাবক হিসেবে বহুদিন দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু এ বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি।

টঙ্গী পশ্চিম থানা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শিল্পী আক্তার বলেন, ‘সীমার বিষয়ে পূর্বে আমরা যাদেরকে জিজ্ঞাসা করেছি তারা ভালো বলেছে। হয়তো তারা আমাদের কাছে তথ্য গোপন করেছেন।’ 

‘অভিযোগের প্রমাণ পেলে কমিটি বাতিল’ 

সীমার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ প্রমাণিত হলে টঙ্গী ৫৫ নং ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগের কমিটি বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর ও টঙ্গীর যুব মহিলা লীগের নেতারা।

পুলিশ বলছে, সীমার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাজীপুর মহানগর যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ারা সরকার আনু বলেন, ‘তার বিষয়ে আমরা থানায় খোঁজখবর নিচ্ছি। সে যদি সত্যি মাদকের সাথে জড়িতে থাকে তবে আমরা কমিটি বাতিল করে দেব।’

টঙ্গী পশ্চিম থানা যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাছরিন আক্তার বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা সীমার নাম দিয়েছে। তবে মাদকে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’

গাজীপুর মহানগর যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক রুহুন নেছা বলেন, ‘শুনেছি সে এক সময় মাদকের সাথে জড়িত ছিল। তবে সে প্রতিজ্ঞা করেছে আর কোনদিন মাদকের সাথে জড়াবে না। তাই আমরা তাকে একটি সুযোগ দিয়েছি। পরবর্তীতে মাদকে তার সংশ্লিষ্টতা পেলে ব্যবস্থা নেব।’

টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ আলম বলেন, ‘সীমা একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ছিল। তাকে পর্যবেক্ষনে রেখেছি। গত দুই বছর যাবত সে মাদকের সাথে জড়িত নেই। তবে মাদকের সংশ্লিষ্টতা পেলে অবশ্যই পুনরায় তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’