ময়মনসিংহে চালককে ছুরিকাঘাত করে ইজিবাইক নিয়ে পালানোর সময় স্থানীয়দের ধাওয়ায় একটি গেঞ্জি ও এক জোড়া জুতা ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। পুলিশের হাতে আসা সেই গেঞ্জি ও জুতা জোড়ার সূত্র টেনে উন্মোচন হয়েছে হত্যা রহস্যের। গ্রেপ্তার হয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন মোশারফ হোসেন (২৪)। ওই গ্রামের সুলতা উদ্দিন সুলতুর ছেলে তিনি। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালিয়ে জীবন চালানো মোশারফ টার্গেটে পরিণত হন ছিনতাইকারী দলের। গেল বছরের ২ নভেম্বর নিজের গ্রাম থেকে ইজিবাইকটি নিয়ে কিশোরগঞ্জ শহরের বটতলা বাজারের স্টেশনে অবস্থান করার সময় হন টার্গেট। রোগী পরিবহনের জন্য চার যাত্রী ভাড়া করে মোশারফের ইজিবাইকটি। সে রাতে জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের রোসাটি বাজারের কাছে নিয়ে বাড়ি থেকে রোগী আনার জন্য বলা হয়। কিন্তু চালক রাজি না হলে চক্রটি ধস্তাধস্তি শুরু করে। এর পর চালকের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করেন। ওই অবস্থায় চালককে ছুরিকাঘাত করে ইজিবাইকটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে চার সদস্যের চক্রটি। স্থানীয় লোকজন চক্রটিকে ধাওয়া করায় প্রায় ধরা পড়ে যাওয়া একজন নিজের গেঞ্জি খুলে ও একজন নিজের জুতা রেখে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত চালকের মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলেই। এ খবরে ঘটনাস্থলের কিছুদূর আবদুল্লাহপুর গ্রামে ইজিবাইকটিও ফেলে যায় দলটি। চাবি পুঁতে রেখে যায় মাটির নিচে। পুলিশ পরে গেঞ্জি, জুতা ও ইজিবাইকটি হেফাজতে নেয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা ৫ নভেম্বর অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে নান্দাইল মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটির তদন্তভার পায় ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। 

গেঞ্জি ও জুতার সূত্র ধরে ডিবি পুলিশের দল জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রচেষ্টা শুরু করে। প্রায় তিন মাসের মাথায় হত্যা রহস্য উন্মোচন করতে পেরেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নান্দাইলের জাহাঙ্গীপুর এলাকা ও গাজীপুরের মাওনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক করা হয় চার ব্যক্তিকে। 

তারা হলেন— নান্দাইলের তারাপাশা গ্রামের মো. শাহ জালাল সিকদার (২৫), বারোগড়িয়া গ্রামের মো. শান্ত মন্ডল (২০), উত্তর জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলাম মানিক (২৫) ও রহিমপুর গ্রামের মো. মনির উদ্দিন (২৬)। 

এদের মধ্যে মানিক পেশায় ইজিবাইক চালক, মনির শিক্ষা গ্রহণের পর বেকার জীবন কাটাচ্ছে, শান্ত এসএসসি পাশ করে পড়ালেখা বন্ধ ও জালাল গ্যারেজে কাজ করে। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধের তথ্য নেই পুলিশের কাছে। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ইজিবাইক চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর ইজিবাইকটি নিয়ে পালানোর সময় মনির ও শান্ত ধাওয়ার শিকার হন। মনির নিজের গেঞ্জি ও শান্ত নিজের জুতা ফেলে যান ঘটনাস্থলের কাছে। ধরা পড়ার পর সেগুলো নিজেদের বলেও শনাক্ত করে। ওই অবস্থায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে ময়মনসিংহ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের তিন বিচারকের আদালতে হাজির করা হয়। পরে সন্ধ্যায় চার আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুর রহমান বলেন, গেঞ্জি ও জুতার সূত্র ধরেই চার আসামিকে তারা গ্রেপ্তার করেন। হুট করে টাকার অভাব অনুভব করায় ছিনতাইয়ের পরিকল্পনাটি করে ওই চারজন। আদালতেও তারা এ বিষয়টি জানিয়েছে।