বরিশালের বানারীপাড়ায় ১২ সংখ্যালঘু পরিবারের বসতবাড়ি ও জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল- ২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শাহে আলমের বিরুদ্ধে। 

মঙ্গলবার বিকেলে বরিশাল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগী রতন ঘরামীসহ অপর দুই পরিবারের সদস্যরা। 

তবে এ অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে এমপি শাহে আলম বলেছেন, বানারীপাড়া আওয়ামী লীগের কিছু নেতা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। ওই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে কল্পিত অভিযোগ তোলা হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠি ইউনিয়নের পশ্চিম তেতলা গ্রামের বাসিন্দা সুমন রায়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন— একই গ্রামের ভুক্তভোগী রতন ঘরামি ও সুমন সিকদার। 

সাংবাদিক সম্মেলনে রতন ঘরামি বলেন, ১৫ দিন আগে এমপি শাহে আলম তাকে বাসায় ডেকে নিয়ে তার জমিতে একটা প্রজেক্ট করার কথা জানান ও  জমি তাকে লিখে দেওয়ার জন্য বলেন। এরপর থেকে এমপির লোকজন তাকে বিভিন্ন সময় নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন।  

রতন ঘরামির দাবি তিনি ছাড়াও আরও ১১টি পরিবারের জমিও এমপি জোর করে দখলে নিতে চান। 

রতন ঘরামি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, সোমবার রাতে এমপির নির্দেশে স্থানীয় মেম্বার ইব্রাহীম, এমপির কর্মচারী আল আমিন, তুহিন গাজী ও  ইলিয়াস খান আমার বাড়িতে গিয়ে দরজা খুলতে বলে। আমি অসুস্থ থাকায় আমার স্ত্রী দরজা খুলে দেয়। পরে ঘরে ঢুকে আমাকে আটকে রাখে। তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন, সকালে চাখার রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে এমপি সাহেবকে তোর জমি লিখে দিতে হবে। বিষয়টি জানতে পেরে আমার আত্মীয় স্বজনরা ৯৯৯ এ যোগাযোগ করলে রাত ২টা ২০ মিনিটে পুলিশ গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে। এসময় তুহিন গাজী ও ইলিয়াস খানকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু মঙ্গলবার সকালেই পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়। পরে আমরা সকালে পালিয়ে বরিশাল আসি। এখন আমার জীবন ও জমি দুটিই ঝুঁকিতে। আমি আইনি সহায়তা চাইলেও পুলিশ আমাদের কোনো সহায়তা করেনি।

রতন ঘরামীর ভাগ্নে ও প্রতিবেশী সুমন রায় বলেন, গত ৬ মাস ধরে এমপি শাহে আলম পশ্চিম তেতলা গ্রামের ১২টি সংখ্যালঘু পরিবারের বসতবাড়ি ও জমি তার দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। শুনেছি এমপি সাহেব আমাদের জমিতে ফার্ম করবেন।

সুমন সিকদার বলেন, আমরা প্রায় ২০০ বছর ধরে পূর্ব পুরুষের ভিটেবাড়িতে বসবাস করছি। আমার বসতবাড়িসহ ১০ কাঠা জমি আছে। এই জমি এমপি সাহেব লিখে নিতে চান। এ অবস্থায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস করছি। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য শাহে আলম সমকালকে বলেন, গত ৩ বছর ধরে বানারীপাড়া আওয়ামী লীগের কিছু নেতা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। তাদের ইন্ধনে এসব হচ্ছে। নির্বাচনের সময় যত কাছে আসছে ষড়যন্ত্রকারীরা তত সক্রিয় হচ্ছেন। 

এমপি আরও বলেন, আমি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। তা দলের একটি মহলের সহ্য হচ্ছে না। তারা কাল্পনিক অভিযোগ তুলে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। 

সাংবাদিক সম্মেলনে করা অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন সমকালকে বলেন, ৯৯৯ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বানারীপাড়ার লবনসারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী উপ পরিদর্শক জাভেদ ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তবে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তিনি ফিরে আসেন। কাউকে আটক করা হয়নি। 

ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, তার কাছে ভুক্তভোগী কেউ কোনো সহায়তা চাননি বা কোনো অভিযোগ দেননি। 

গত ২ জানুয়ারী বানারীপাড়া পৌর শহরে শহীদ বুদ্ধিজীবী জ্যোর্তিময় গুহ ঠাকুরদার স্বজন অনুপ গুহর ৫ শতাংশ জমি এমপি শাহে আলমের নির্দেশে বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য দখলে নেওয়া হয়। এমপি শাহে আলম বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি। তবে এমপি শাহে আলম অনুপ গুহকে জমির বাজারমূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।