আপন তিন ভাইবোনসহ চারজনের মৃত্যুর রেশ না কাটতেই নীলফামারীতে আবারও অরক্ষিত রেলগেটের কারণে ঝরল তাজা আরও চারটি প্রাণ।

বুধবার সকাল ৭টার দিকে তীব্র কুয়াশার মধ্য দিয়ে নীলফামারী সদরের দারোয়ানী রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে রেলক্রসিং অতিক্রম করছিল একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা। এ সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর সীমান্ত এপপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে সেটি। এতে ঘটনাস্থলেই এক নারী শ্রমিক ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান। আহত হন অটোরিকশাচালকসহ আরও সাত নারী শ্রমিক। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে আরও তিন নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

হতাহতদের বাড়ি একই উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের ধনীপাড়া ও কোরানীপাড়া গ্রামে। তারা সবাই উত্তরা ইপিজেডের বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ডিসেম্বর একই সময় ওই ঘটনাস্থলের চার কিলোমিটার দূরে জেলা সদরের কুন্দপুকুর ইউনিয়নের মনষাপাড়া গ্রামের বউবাজার নামক স্থানে ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের তিন শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন নারী শ্রমিক শেফালী বেগম (৩৫)। তিনি ধনীপাড়া গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক আশরাফ হোসেনের স্ত্রী। গুরুতর আহত অটোরিকশাচালকসহ আরও সাত নারী শ্রমিককে এলাকাবাসীর সহায়তায় নীলফামারী দমকল বাহিনীর কর্মীরা উদ্ধার করে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

সেখানে একই গ্রামের ইজিবাইক চালক মোশারফ হেসেনের স্ত্রী রুমানা বেগম (৩৫) ও কোরানীপাড়া গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক বেলাল হোসেনের স্ত্রী সাহেরা বানু (৩৫) নামে দুই নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়। নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান নারী শ্রমিক ধনীপাড়া গ্রামের হোটেল শ্রমিক আরমান আলীর স্ত্রী মিনারা বেগম (৩০)। সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার পরিদর্শক মো. আব্দুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আহত নারী শ্রমিক রওশনারা বেগমকে (২৭) নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে এবং কুলসুম বেগম (৩০) ও অটোরিকশাচালক অহিদুল ইসলামের (২৪) চিকিৎসা চলছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

দারোয়ানী রেলস্টেশন এলাকার খুচরা ওষুধ বিক্রেতা শাহিনুর রহমান শাহিন জানান, সকালে প্রচণ্ড কুয়াশার কারণে ট্রেনের উপস্থিতি বুঝতে না পারায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রেলক্রসিংটি অরক্ষিত থাকায় দেড় বছর আগেও এটি পারাপারের সময় ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যু হয়। গত ১০ বছরে ক্রসিংটিতে অন্তত পাঁচটি দুর্ঘটনা ঘটার কথা জানান তিনি।

নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন নাহার বলেন, 'খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সংশ্নিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে নিহত ও আহতদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী তাদের পরিবারকে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।'

উল্লেখ্য, গত ৮ ডিসেম্বর সকালে ট্রেনে কাটা পড়ে নীলফামারী সদরের কুন্দপুকুর ইউপি বউবাজার মনষাপাড়া গ্রামে রিকশাচালক রেজওয়ান আলীর শিশু মেয়ে লিমা আক্তার (৭), শিমু আক্তার (৪) ও ছেলে মমিনুর রহমানের (৩) মৃত্যু হয়। তাদের বাঁচাতে গিয়ে মারা যান প্রতিবেশী যুবক সালমান ফারসী শামীম (৩০)।