সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে কফিল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে তার স্ত্রী ও ছেলে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, কফিল উদ্দিনকে ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন ও চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে তার টিপসই নিয়ে ছেলে কিছু সম্পত্তি নিজের নামে করিয়ে নিয়েছে বলেও জানা গেছে।

মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী হোসনে আরা বেগম ও ছেলে সাইদুল ইসলামের

শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে এই অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগী বৃদ্ধ কফিল উদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে কফিল উদ্দিন বলেন, ২৬ বছর কুয়েতে চাকরি করে তিনি এলাকায় চারটি বাড়ি, স্থানীয় বাজারে একটি দোকান ও ১৭ বিঘা জমি কিনেছেন। এই সম্পত্তির মালিক হয়েও বর্তমানে তিনি নিঃস্ব। তাকে দেখাশোনার কেউ নেই।

তিনি জানান, ২০১৯ সালে কুয়েত জীবন শেষ করে দেশে ফিরে আসেন। দেশে এসে জমি কেনার জন্য স্ত্রীকে ১০ লাখ টাকা দিলেও স্ত্রী জমি কেনেননি। তার কাছে টাকার হিসাব চাইলে হিসাব না দিয়ে উল্টো তার এবং ছেলের নামে জায়গা-সম্পত্তি লিখে দিতে চাপ দিতে থাকেন। তাদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি তার ভাগ্নির বাড়িতে চলে যান। সাড়ে পাঁচ মাস আগে তার ছেলে সাইদুল তাকে সেখান থেকে জোরপূর্বক ধরে এনে ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন শুরু করে। তাকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে কিছু সম্পত্তি তাদের নামে লিখে নেয়। এ ঘটনায় তিনি বাঞ্ছারামপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর থেকেই তিনি বাড়িছাড়া। তিনি তার সম্পত্তি ফিরে পেতে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সহযোগিতা এবং নির্যাতনের বিচার দাবি করেন।

এ ব্যাপারে কফিল উদ্দিনের ছেলে সাইদুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'বাবা নিজের ইচ্ছাতেই আমাদের সম্পত্তি লিখে দিয়েছেন। সম্পত্তির জন্য বাবাকে কখনও নির্যাতন করিনি।'