বুধবার সকাল ১০টার দিকে হাসপাতাল থেকে একে একে অনশনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরতে থাকেন। সেখানেই অবস্থান করেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক। তাদের হাত থেকে পানি খেয়ে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙেন।

এর আগে ভোর চারটার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে যান অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুই ঘণ্টার বেশি সময় কথা বলেন এবং তাদের বোঝাতে চেষ্টা করেন জীবনের মূল্য আছে। এভাবে নিজেকে শেষ করে দেওয়া ঠিক নয়৷ এছাড়া অনশনরত এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আশ্বস্ত করেন ড. জাফর ইকবাল।

পরে শিক্ষার্থীরা তার আশ্বাসে অনশন ভাঙতে রাজি হন। তখন ২০ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে এবং ৮ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে ছিলেন। শিক্ষার্থীরা শর্ত দেন সবাই একসঙ্গে ক্যাম্পাসে অনশন ভাঙবেন। সেই কথা অনুযায়ী হাসপাতাল থেকে এক এক করে শিক্ষার্থীদের আনা হয় এবং সাড়ে ১০টার দিকে ড. জাফর ইকবাল ও ড. ইয়াসমিন হক শিক্ষার্থীদের মুখে পানি দিয়ে অনশন ভাঙান।

অনশনরত শিক্ষার্থী জাহিদুর ইসলাম অপূর্ব বলেন, ‘আমরা স্যারের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে অনশন ভাঙছি। স্যার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন আমাদের দাবির বিষয়ে। কিন্তু উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’ পরে অনশনে থাকা সকল শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এদিকে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে অবস্থান নিয়ে শপথ নেন। তারা অনশনরত শিক্ষার্থীদের কষ্ট সহ্য করতে পারছেন না বলে উল্লেখ করেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা অনশনরত শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করবো তারা যেন অনশন ভাঙেন। অনশনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙার বিষয়ে তারা সবাই অনুরোধ করলেও কিছু শিক্ষার্থী স্পষ্ট ঘোষণা দেন তারা অনশন ভাঙবেন না। পরে শিক্ষার্থীরা রাত নয়টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দেন তারা অনশন চালিয়ে যাবেন।

বুধবার থেকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনে বসে। মোট প্রায় ১৬৩ ঘণ্টা অনশন শেষে শিক্ষার্থীরা আজ অনশন ভাঙেন।

এদিকে রাতে ড. জাফর ইকবাল ক্যাম্পাসে গিয়ে প্রথমে অনশনরত শিক্ষার্থীদের কাছে যান এবং তাদের কথা শোনেন। সেখানে যাবার সময় শিক্ষার্থীরা তাকে ঘিরে ধরেন। এ সময় পুলিশ তার জায়গা ক্লিয়ার করতে গেলে ড. জাফর ইকবাল বলেন, ‘এরা সবাই আমার শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আমার সিকিউরিটির দরকার নেই।’

সে সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমি জেনেছি খাবার এবং চিকিৎসার জন্য ফান্ডে টাকা দেওয়ায় আমার সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থীকে পুলিশ ধরে নিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর একটা স্মারকগ্রন্থে আমার কাছে একটা লেখা চেয়েছিল। সেই লেখাটার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আমাকে ১০ হাজার টাকা সম্মানি দেয়া হয়েছে। আমি এই সম্মানির টাকাটা নিয়ে আসছি। শাবির এই আন্দোলনের ফান্ডে এই টাকাটা দিচ্ছি, তোমরা রাখো। তোমাদের অর্থ দিয়ে সাহায্য করার জন্য আমাকেও সিআইডি অ্যারেস্ট করুক।’