শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ‘শিক্ষক নেটওয়ার্ক’ নামের একটি সংগঠন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে এই কর্মসূচি পালন করেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক।  

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের কারণে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতিবাচক দিক এখন সামনে আসছে।  

বক্তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তাদের পাশে থাকার কথা জানান।

বক্তারা বলেন, অধ্যাপক জাফর ইকবাল যদি সত্যিই  শিক্ষার্থীদের ভালো চাইতেন তাহলে তিনি রাষ্ট্রপতির  কাছে গিয়ে যে উপাচার্যের জন্য শিক্ষার্থীদের অনশনে বসতে হয়েছে সেই উপাচার্যের পদত্যাগ চাইতেন। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল দালানকোঠা নয়, ব্যাংক অফিস বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মতো নয়। এখানে সজীব প্রাণবন্ত শিক্ষার্থীরা আছেন। অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মতো আচরণ শিক্ষার্থীদের সাথে করে যাবে না।

বক্তারা আরও বলেন, সাবেক যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অর্থায়নের দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা ন্যাক্কারজনক।

বক্তারা শিগগিরই ওই শিক্ষার্থীদের ওপর দেওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহার এবং উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অপসারণ করে সেখানে যোগ্য ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান।

সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক মাইদুল ইসলামের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সুবর্ণা মজুমদার, শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক হাসান তৌফিক ইমাম, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক গোলাম হোসেন।  এতে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষার্থী রাজেশ্বর দাশগুপ্ত,  গৌরচাঁদ ঠাকুর,  সোহেল চাকমা, মোহাম্মদ হাসান, সচেতন নাগরিক আব্দুল হক প্রমুখ।

উল্লেখ্য,  ১৩ জানুয়ারি রাতে শাহজালার বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েকশ ছাত্রী। ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ছাত্রীদের আন্দোলনে হামলা চালায় ছাত্রলীগ। ১৬ জানুয়ারি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে ও শটগানের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন