নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সামনে রেখে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে প্রার্থীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ৭ চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর বুধবার লিখিত অভিযোগ করেছেন।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ৮টি ইউপিতে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের দলীয় কোন প্রতীক থাকছেনা। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন। অপর দিকে কাদের মির্জার অনুসারী ৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী আছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের অভিযোগ, কাদের মির্জা নিজের অনুসারীদের নিয়ে তাদের ও সংখ্যালঘু ভোটারদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন।

লিখিত অভিযোগ দেওয়া প্রার্থীরা হলেন চরপার্বতী ইউপির প্রার্থী মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু, মুছাপুর ইউপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম চৌধুরী শাহীন, চর এলাহীর প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক, রামপুর ইউপির প্রার্থী সিরাজিস সালেকীন রিমন, চরহাজারী ইউপির প্রার্থী নুরুজ্জামান স্বপন, চরফকিরা ইউপির প্রার্থী জায়দল হক কচি, সিরাজপুর ইউপির প্রার্থী মাঈন উদ্দিন মামুন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, কাদের মির্জা তার অনুসারী জনবিচ্ছিন্ন প্রার্থীদের পক্ষে জোরপূর্বক কেন্দ্র দখল করে অবৈধভাবে নির্বাচিত করার লক্ষ্যে অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি ইতিমধ্যে তার অনুসারীদের দিয়ে ও তিনি সশরীরে বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে উপস্থিত হয়ে দলের নেতাকর্মীসহ প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীদের কর্মি সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। মোবাইল ফোনেও অনেককে হুমকি দিচ্ছে। এতে করে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এছাড়াও তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে পৌরসভার সরকারি গাড়িসহ অনুসারীদের সঙ্গে করে গাড়ি বহর নিয়ে বিভিন্নস্থানে গণসংযোগে উপস্থিত হয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। এতে নির্বাচনের দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংগঠিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবেদনে গাড়ি বহরে থাকা সশস্ত্র লোকজনদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়।

এ ব্যপারে আব্দুল কাদের মির্জা বলেন, আমি কোন সন্ত্রাসী নিয়ে চলিনা। দলের নেতাকর্মী আমার সঙ্গে থাকে। নির্বাচনের আগে চিরুনী অভিযানের মাধ্যমে উপজেলায় অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য প্রশাসন আমার কাছে যে সহযোগিতা চাইবে, তা দেব।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, সাত চেয়ারম্যান প্রার্থী স্বাক্ষরিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।