একজন বিয়ে পাগল প্রতারক শাকিল মাহমুদ আজাদ (২৯)। এরই মধ্যে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন 'কাতারী জামাই' হিসেবে। পরিচয় গোপন করে খুলনা, রাজশাহী, নীলফামারী, ফরিদপুর, বাগেরহাট, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লাসহ ৭টি জেলায় দরিদ্র পরিবারকে টার্গেট করে সাতটি বিয়ে করেছেন।

কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি ওই বিয়ে পাগল প্রতারকের। বাগেরহাটের পঞ্চম স্ত্রী ও পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে ধরতে অভিযানে নামে র‌্যাবের একটি দল।

মঙ্গলবার গভীর রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার নিকট থেকে ৭টি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার শাকিল কুমিল্লা বরুড়ার অশ্বদিয়া গ্রামের আবু হানিফের ছেলে।

বুধবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লা ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন।

তিনি জানান, শাকিল মাহমুদ আজাদ কাতারে বড় ব্যবসায়ী ও চাকুরিজীবী পরিচয়ে দেশের ৭টি জেলায় দরিদ্র ও অসচ্ছ্বল পরিবারে প্রতারণার মাধ্যমে ৭টি বিয়ে করেন। এসব পরিবারের কাছে তিনি কাতারী জামাই হিসেবে পরিচিত। শ্বশুরবাড়িসহ আশেপাশের এলাকার লোকজনকে কাতারে নিয়ে গিয়ে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।

এছাড়াও বিশ্বাস অর্জনের জন্য তিনি বিদেশ গমনেচ্ছুদের অলিখিত চেক দিতেন। এভাবে বিভিন্ন জেলায় প্রতারণা করে বিয়ে করা স্ত্রীকে ফেলে হাতিয়ে নেওয়া টাকা নিয়ে সেখান থেকে তিনি পালিয়ে আসতেন।

প্রতারিতদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে শাকিল ওরফে কাতারী জামাইকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও জানান,  প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ৭ জেলায় ৭ বিয়ে ও প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে বুধবার বরুড়া থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

র‌্যাব কার্যালয়ে প্রতারিতদের মধ্যে শাকিলের পঞ্চম স্ত্রী বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের কচুবুনিয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে ইতিমনি (২০) সাংবাদিকদের বলেন, শাকিল ১ বছর ৮ মাস আগে তাকে বিয়ে করেন। পরে ইতিমনির চাচা জাহাঙ্গীর আলমকে হজে নেওয়ার নাম করে শাকিল ২ লাখ টাকা ও একই এলাকার আরও ১১ জনের কাছ থেকে কাতার নেওয়া ও পাসপোর্ট তৈরি করে দেওয়ার নামে মোট ১৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান।

র‌্যাব কার্যালয়ে এসে ইতিমনির চাচা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এলাকার প্রতারিতদের রোষানলে পড়ে মামলা করেন তারা এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলে তারা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন।