রাজধানীর মগবাজারে শিশু রাকিবুল হাসান (১৩) নিহতের ঘটনায় দায়ী দুটি বাসের একটি চালাচ্ছিলেন হেলপার (চালকের সহকারী) মনির হোসেন। আরেকটি বাসের চালক ইমরান হোসেন ছিলেন মাদকাসক্ত। তার ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও মনিরের নেই। মঙ্গলবার তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-৩। বুধবার কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, মনির হোসেন পাঁচ বছর মধ্যপ্রাচ্যে থাকার পর তিন মাস আগে দেশে ফেরেন। তার বাড়ি ভোলা জেলায়। দেড় মাস আগে ঢাকায় আসেন কর্মসংস্থানের জন্য। মাসখানেক ধরে আজমেরী গ্লোরি পরিবহনের বাসে চালকের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। মাঝেমধ্যে চালকের আসনে বসতেন। গত ২০ জানুয়ারি মগবাজারে পাল্লা দেওয়া একটি বাস তিনি চালাচ্ছিলেন। মগবাজার মোড়ের সিগন্যাল ছেড়ে দিলে মনির আগে গিয়ে যাত্রী তোলার উদ্দেশে বাসটি দ্রুত টান দেন। পাশে আজমেরী গ্লোরির আরেকটি বাসের চালক ইমরানও পাল্লা দেন যাত্রী তোলার জন্য। এ সময় দুই বাসের মাঝখানে চাপা পড়ে ভাসমান হকার রাকিবুল নিহত হয়। বাস দুটি রেখে চালকরা পালিয়ে যান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনায় নিজেদের দায় থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

রাকিবুলের বাসা মগবাজারের পেয়ারাবাগে। তার বাবা নুরুল ইসলাম ফেরি করে পান বিক্রি করেন, আর মা অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। রাকিবুল মাস্ক ও চিপস বিক্রি করত। ঘটনার দিনও সে মগবাজারে চিপস বিক্রি করছিল। জানালা দিয়ে যাত্রীর কাছে চিপস বিক্রির সময় দুই বাসের মাঝখানে চাপা পড়ে প্রাণ হারাতে হয় তাকে। এ ঘটনায় সড়ক ও পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৯৮ ও ১০৫ ধারায় রমনা থানায় মামলা করে তার পরিবার। ওই মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-৩। এর পরই মঙ্গলবার মনিরকে পল্টন থেকে এবং ইমরানকে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইমরান ১০ থেকে ১২ বছর ধরে আজমেরী গ্লোরি পরিবহনের বাস চালান। তিন বছর আগে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছেন। মালিককে প্রতিদিন তিন হাজার ৫০০ টাকা দেওয়ার চুক্তিতে তিনি বাসটি ভাড়া নিয়ে চালাচ্ছিলেন। ইমরান মাদকাসক্ত। মাদক সেবন করায় তার বিরুদ্ধে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় মাদক মামলা রয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কমান্ডার আল মঈন বলেন, আন্তঃজেলা গণপরিবহনের তুলনায় ঢাকায় চলাচল করা বাসে সম্প্রতি দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। মালিকের কাছ থেকে চুক্তিভিত্তিক গাড়ি নিয়ে চালানোই এসব দুর্ঘটনা ঘটার অন্যতম কারণ।

মনিরের বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার মুলাই পত্তন গ্রামে। ইমরানের বাড়ি শরীয়তপুরের সখিপুর থানার সরকারকান্দি গ্রামে।