কখনও সংসদ সদস্য, কখনও উপজেলা, আবার কখনও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন তিনি। এবারের ইউপি নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হয়েছেন। ষষ্ঠ ধাপে আগামী ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তিনি। তার নাম আব্দুল হাই মাস্টার (৬২)। তার প্রতীক মোটরসাইকেল। উপজেলা, এমপি ও ইউনিয়ন মিলে ১২টি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন আব্দুল হাই মাস্টার। কেউ কেউ তাকে 'পাগলা' হাই বলেও চেনেন। তবে তার পাগলা নামটা আসে জনপ্রিয়তা থেকে। উপজেলা চেয়ারম্যান থাকার সময় শহরের ড্রেন ও শৌচাগার পরিস্কার করতে নেমে যেতেন নিজেই। শহরের আনাচে-কানাচে ময়লা-আবর্জনা দেখলেই পরিস্কার করা শুরু করতেন।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের মধ্য ভরতেরছড়া গ্রামের মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে তিনি। ১৯৯৫ সালে চর ভূরুঙ্গামারী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তখন থেকে তিনি আব্দুল হাই মাস্টার হিসেবে পরিচিত। তবে কর্মজীবন শুরুর আগে থেকেই তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হন।

তার নির্বাচনী কার্যক্রমে থাকে না কর্মী-সমর্থক। পোস্টার, লিফলেট, মিছিল-মিটিংও নেই। নিজেই মাইক হাতে নিজের ভোট চেয়ে বেড়ান গোটা নির্বাচনী এলাকায়। এবারও তাই করছেন তিনি। নিজের ভোটের প্রচার চলাচ্ছেন নিজেই। জয় নিয়েও আশাবাদী তিনি।

জানা গেছে, ১৯৯০ সালে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রথম নির্বাচন করেন আব্দুল হাই। তারপর তিনি ২০০৪, ২০০৯ ও ২০১৮ সালেও উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশ নেন। তবে শুধু ২০০৯ সালে আব্দুল হাই উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ ছাড়া ১৯৯১ সালে কমিউনিস্ট পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে কাস্তে প্রতীক, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ২০১৮ সালে জাকের পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে গোলাপফুল প্রতীক নিয়ে কুড়িগ্রাম-১ (ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী) আসন থেকে এমপি নির্বাচন করেন। তবে এমপি নির্বাচিত হতে পারেননি কখনই। ১৯৯২, ১৯৯৭, ২০০৩ সালে বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করলেও ২০০৩ সালে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এবার চতুর্থবারের মতো তিনি ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন।

তাকে নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের মাঝে কৌতূহলেরও শেষ নেই। অনেকে বলেন, মানুষ হিসেবে ভালো তিনি। তাকে ভোট দিলে মানুষের উপকার হয়। তিনি দুর্নীতি করেন না।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আব্দুল হাই মাস্টারের সম্পদ বলতে রয়েছে ২৪ শতক বসতভিটা। দুই বিঘা জমি ছিল। তার এক বিঘা বিক্রি করে আগেই ভোটে ব্যয় করেছেন তিনি। উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে নিজের জন্য কিছুই করেননি। থাকতেন ভাড়া বাসায়। ভোটে হেরে বাসা ছেড়ে চলে যান গ্রামের বাড়িতে।

বর্তমান রাজনীতির নানা দিক তুলে বক্তব্য দেন তিনি। সাধারণ কৌতূহলী মানুষ তাকে ঘিরে ধরে শুনতে থাকেন।
স্থানীয় সাহাদৎ হোসেন বলেন, 'ভোট এলেই তিনি প্রার্থী হন। একাই প্রচার করেন তিনি। কিন্তু এখনকার মানুষ তো অন্যরকম। এমনি-এমনি ভোট দেয় না। তবে তিনি ভালো মানুষ। তিনি মানুষের উপকার করেন।'

আব্দুল হাই মাস্টার বলেন, ভোটে প্রার্থীর যা খরচ হবে, তা প্রার্থীর নয়- জনগণের খরচ। এখন যেটা খরচ করছেন প্রার্থীরা, পরে সেটা উসুল করে নেবেন জনগণের কাছ থেকে। আমি তা করতে চাই না। যদি নির্বাচিত হই, তাহলে জনগণ টাকা ছাড়াই সেবা পাবেন। ভোট এলেই প্রার্থী হন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানুষের জন্য কাজ করার চিন্তা ভেতর থেকে আসে। সেবা করার জন্য আসলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া।