চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নে গণসংযোগের সময় আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র  চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী -সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় খাগরিয়া ভোরবাজারস্থ গণিপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জসিম উদ্দীন তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে গণিপাড়ায় আকতার চেয়ারম্যানের বাড়ি এলাকায় গণসংযোগে যায়।  এসময় আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আকতার হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে তার সমর্থকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় গুলিবর্ষণ, লাটিসোঠা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হন।

আহত আবু সফিয়ান, মনির আহমদ, জাফর আহমদসহ অন্যরা জানান, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জসিম উদ্দীন (মোটর সাইকেল) তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে বৃহস্পতিবার গণসংযোগে বের হন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ভোরবাজারস্থ গণিপাড়া এলাকায় পৌঁছলে হঠাৎ করেই বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকার প্রার্থী মো. আকতার হোসেনের কর্মী সমর্থকরা গুলি, লাটিসোঠা নিয়ে গণসংযোগে হামলা চালায়। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জসিম উদ্দীনের ১৫ জন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধসহ আহত হন। হামলার সময় বেশ কয়েকজন পথচারীও আহত হন বলে জানা যায়। আহতদের দোহাজারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাদেরকে  চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জসিম উদ্দীন জানান, বেলা ১১টার দিকে মিছিল সহকারে খাগরিয়া ভোরবাজার গেলে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আকতার হোসেনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী তার কর্মী- সমর্থকদের উপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে তার ১৫ জন কর্মী সমর্থক গুলিবিদ্ধ হন।

আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আকতার হোসেন হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এলডিপি নেতা জসিম উদ্দীন উল্টো সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সকালে ১১টার দিকে তার বাড়িতে এসে হামলা করে। এসময় তারা আকতার হোসেনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তার বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করে। এসময় তারা ভোরবাজারে আকতার হোসেনের প্রধান নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষতি করে এবং তার কর্মী সমর্থকদের উপর এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ করে।

চয়ারম্যান প্রার্থী মো. আকতার হোসেনের দাবি, নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতেই নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আগামীকালের মধ্যে নির্বাচন থেকে সরে না দাড়ালে তাকে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সাতকানিয়া থানার ওসি মো. আবদুল জলিল জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।